বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৭ কিলোমিটার জমি দিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার।
ভারতের সংবাদপত্র আনন্দবাজার জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী–এর মন্ত্রিসভা জমি হস্তান্তরের অনুমোদন দিয়েছে। বুধবার রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ভবন নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে বিষয়টি জানান মুখ্যমন্ত্রী নিজেই।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পরই বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেন শুভেন্দু অধিকারী।
গত ১১ মে নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে তিনি জানিয়েছিলেন, ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের যেসব অংশে এখনো কাঁটাতার নেই, সেসব জায়গার জমি হস্তান্তর করবে রাজ্য সরকার।
বুধবার সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার। এর মধ্যে ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটারে কাঁটাতার আছে, বাকি ৬০০ কিলোমিটার এখনো অসম্পূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, “আগের সরকার চাইলে এই জমি বিএসএফকে দিতে পারত। কিন্তু তোষণের রাজনীতি করায় তারা তা করেনি।”
প্রথম ধাপে ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তরের পর শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এই দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষিত করতে প্রয়োজনীয় জমি দেওয়া হচ্ছে। এটি কেবল শুরু। খুব দ্রুতই পুরো কাজ সম্পন্ন করা হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া লিখেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ‘অরক্ষিত’ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক চলছিল। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে এটি বিজেপির অন্যতম প্রচার ইস্যু ছিল।
দ্য ওয়াল–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজেপির অভিযোগ ছিল, সীমান্তের বিভিন্ন অংশে কাঁটাতার না থাকায় বাংলাদেশিরা ‘অবৈধভাবে’ ভারতে প্রবেশ করছে এবং ভোটের রাজনীতির কারণে তাদের থাকতে দেওয়া হচ্ছে।
গত জানুয়ারিতে কলকাতা হাই কোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ৩১ মার্চের মধ্যে ৯টি জেলায় সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের ‘অননুমোদিত’ বেড়া নির্মাণ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনাও তৈরি হয়েছিল। ১৯৭২ সালের ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী চুক্তির ভিত্তিতে ১৯৭৫ সালে সীমান্ত কর্তৃপক্ষের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়।
সেই নীতিমালার প্রসঙ্গ টেনে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বলেছিলেন, সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোনো পক্ষ প্রতিরক্ষা স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না। ওই এলাকার মধ্যে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করতে হলে উভয় দেশের সম্মতি প্রয়োজন।
আনন্দবাজার আরও জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের’ বিষয়ে নতুন পদক্ষেপও কার্যকর করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার আগেই পশ্চিমবঙ্গকে একটি চিঠি দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল, কিন্তু আগের সরকার তা বাস্তবায়ন করেনি।
তিনি জানান, যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএর আওতায় পড়বেন না, তাদের গ্রেপ্তার করে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এরপর তাদের ভারত থেকে বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। বুধবার থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে।
পূর্বের পোস্ট :