মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে দেখা দিয়েছে এবং তাদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ‘খুব বেশি নয়’।
১৯৯৬ সালে দুটি বিমান গুলি করে ভূপাতিত করার ঘটনায় ক্যারিবীয় দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যার অভিযোগ আনার একদিন পর তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। ওই ঘটনায় একাধিক মার্কিন নাগরিক নিহত হন।
রুবিও বলেন, ওয়াশিংটন কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিলেও দেশকে যেকোনো হুমকি থেকে রক্ষা করার অধিকার ও বাধ্যবাধকতা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেছেন, তার দেশ কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি ছিল না। তিনি রুবিওর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা বলার’ অভিযোগও করেন।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিউবার ক্ষেত্রে কূটনীতিকেই এখনো অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
“আমি আপনাদের সত্য বলতে চাই। যাদের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে, সেটি বিবেচনায় নিলে কূটনৈতিক সমাধানে সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি নয়,” বলেন তিনি।
রুবিও আরও অভিযোগ করেন, কিউবা পুরো অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক। তার এই বক্তব্য জোরালোভাবে অস্বীকার করে এক্সে পোস্ট দেন রদ্রিগেজ।
কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রুবিও সামরিক আগ্রাসনে উসকানি দিচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রই তার দেশের বিরুদ্ধে “নির্দয় ও পদ্ধতিগত” হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
চলতি বছরের শুরু থেকে কিউবার ওপর মার্কিন তেল নিষেধাজ্ঞা চলছে। নিষেধাজ্ঞা ভেঙে কিউবায় তেল পাঠানো দেশগুলোর পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার কমিউনিস্ট শাসনের অবসান চায় এবং হাভানাকে চুক্তিতে বাধ্য করতে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মার্কিন তেল অবরোধের কারণে কিউবা কয়েক মাস ধরে তীব্র জ্বালানি সংকটে ভুগছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট, খাদ্য সংকট এবং অর্থনৈতিক চাপও বেড়েছে।
এর মধ্যেই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১০ কোটি ডলারের ত্রাণ সহায়তা গ্রহণ করেছে বলে জানান রুবিও।
বুধবার রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অনেকের মনে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। এ বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী তাকে তার দেশ থেকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায় বলে দাবি করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে “সফল না হওয়া” ট্রাম্প এখন কিউবায়ও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে নিজের সমর্থকদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করতে পারেন।
তাদের ধারণা, কিউবায় বড় বা দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও দুর্বল করতে পারে। সে কারণে তারা দ্রুত এবং স্বল্প সময়ের কোনো অভিযানের দিকে ঝুঁকতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন কীভাবে রাউল কাস্ত্রোকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হবে—এমন প্রশ্নে রুবিও বলেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করবেন না।
তিনি বলেন, “আমরা যদি তাকে আনার চেষ্টা করি, তাহলে কেন গণমাধ্যমে পরিকল্পনা জানাব?”
বুধবার মায়ামিতে কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগ ঘোষণা করা ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, “রাউল কাস্ত্রো এখানে আসবেন—এটাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা, তা নিজের ইচ্ছায় হোক বা অন্য কোনোভাবে।”
কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে এ অভিযোগের নিন্দা জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। কিউবার ক্ষেত্রে চাপ ও হুমকি বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং। ক্রেমলিন বলেছে, হাভানার ওপর চাপ প্রয়োগ “সহিংসতার কাছাকাছি”।
বৃহস্পতিবার রুবিও এক্সে জানান, যুক্তরাষ্ট্র কিউবার সামরিক বাহিনী পরিচালিত একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার বোন আদিস লাস্ত্রেস মোরেরাকে গ্রেপ্তার করেছে।
ফ্লোরিডায় বসবাসকারী মোরেরা কিউবার কমিউনিস্ট শাসকদের সহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়। তাকে আটক করে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানান রুবিও।
এদিকে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, কিউবা একটি “ব্যর্থ দেশ” এবং তার প্রশাসন “মানবতার খাতিরে” দেশটিকে সহায়তা করার চেষ্টা করছে।
কিউবান-আমেরিকানরা তাদের দেশে ফিরতে এবং কিউবার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “গত পঞ্চাশ থেকে ষাট বছর ধরে আগের প্রেসিডেন্টরা চেষ্টা করেছেন কী করা যায়। মনে হচ্ছে আমি এমন একজন প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছি, যিনি কিছু করতে পারবেন—এটা করতে পারলে আমি খুশি হব।”
পূর্বের পোস্ট :