ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে পদত্যাগের দিনক্ষণ ঘোষণার আহ্বান জানানোর পর তার ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের পার্লামেন্ট নির্বাচন এবং ইংল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির পর দলটির ভেতরেই স্টারমারকে নিয়ে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
সোমবার শাবানা মাহমুদের অবস্থান মন্ত্রিসভার ভেতরেও বিভাজনের ইঙ্গিত দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সকালে নিজের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার মুখোমুখি হচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, জানিয়েছে বিবিসি।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, মন্ত্রিসভায় শাবানার মতো অবস্থান নেওয়া সদস্য খুব বেশি না হলেও দলের ভেতরে স্টারমারের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে।
মন্ত্রিসভার ছয়জন সহযোগী— পার্লামেন্টারি প্রাইভেট সেক্রেটারি— ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন অথবা স্টারমারকে সরে যাওয়ার সময়সীমা নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ৭২ জন এমপিও প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
এ অবস্থায় লেবার পার্টির সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব নিয়েও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
দলটির ডানপন্থি অংশ থেকে ওয়েস স্ট্রিটিংকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এমপিদের মধ্যে জনপ্রিয় অ্যান্ডি বার্নহামের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র বার্নহাম বর্তমানে পার্লামেন্টের সদস্য না হওয়ায় অনেকে স্টারমারকে কয়েক মাস পর পদত্যাগ করতে বলছেন, যাতে এর মধ্যে উপনির্বাচনের মাধ্যমে তাকে পার্লামেন্টে আনা যায়।
সম্ভাব্য আরেক প্রার্থী সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার বলেছেন, “দল হিসেবে আমাদের এর চেয়ে ভালো করতে হবে।”
আরও কঠোর মন্তব্য করেছেন লেবার এমপি জোনাথান হিন্ডার।
তিনি বলেন, “কোনো প্রধানমন্ত্রী এভাবে টিকে থাকতে পারেন না। তিনি কখনোই নির্বাচনী সম্পদ ছিলেন না।”
ইংল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টি প্রায় দেড় হাজার কাউন্সিলর হারিয়েছে। একই সঙ্গে উত্থান ঘটেছে ডানপন্থি জনতুষ্টিবাদী দল রিফর্ম ইউকের। এমনকি লেবারের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত অনেক এলাকাও চলে গেছে গ্রিন পার্টির দখলে।
শুধু তাই নয়, ১৯৯৯ সালে সেনেদ প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম ওয়েলসে ক্ষমতা হারিয়েছে লেবার পার্টি। স্কটল্যান্ডের পার্লামেন্টেও দলটি ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে।
তবে এত চাপের মধ্যেও পদত্যাগে রাজি নন স্টারমার। এক বক্তৃতায় নিজের ভুল স্বীকার করে তিনি বলেন, তার নেতৃত্ব নিয়ে যারা সন্দিহান, তাদের ভুল প্রমাণ করবেন তিনি।
স্টারমারের আশঙ্কা, এ মুহূর্তে দায়িত্ব ছাড়লে দেশ “বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে যেতে পারে”।
এদিকে ডাউনিং স্ট্রিটের জন্য কিছুটা স্বস্তি হয়ে এসেছে লেবার এমপি ক্যাথরিন ওয়েস্টের অবস্থান পরিবর্তন। তিনি সরাসরি নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের ঘোষণা থেকে সরে এসে এখন সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দল ও মন্ত্রিসভার ভেতরের ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবিলা করে স্টারমারের টিকে থাকা কঠিন হবে।
তাদের ভাষায়, “স্টারমারকে যেতেই হবে। এখন শুধু প্রশ্ন— কখন এবং কীভাবে।”
পূর্বের পোস্ট :