চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে শীর্ষ বৈঠক শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে শি জিনপিংয়ের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বৈঠক শুরু হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বৈঠকের শুরুতে শি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্যের চেয়ে অভিন্ন স্বার্থের জায়গাই বেশি। তিনি বলেন, দুই দেশের স্থিতিশীল সম্পর্ক শুধু উভয় দেশের জন্য নয়, বিশ্বের জন্যও ইতিবাচক।

শি বলেন, “আমি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে মতবিনিময়ের জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি। অতীতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং ভবিষ্যতের দ্বার উন্মোচনের ক্ষেত্রে ২০২৬ সাল চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও মাইলফলক বছর হোক।”

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বিশ্বে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, “এগুলো ইতিহাসের, বিশ্বের এবং জনগণের প্রশ্ন। একই সঙ্গে এগুলো আমাদের সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, যার উত্তর আমাদের একসঙ্গে দিতে হবে।”

এর আগে গ্রেট হল অব দ্য পিপলের সামনে ট্রাম্পের সম্মানে আনুষ্ঠানিক স্বাগত অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আগে ট্রাম্প বলেন, তার ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে তারা সক্ষম হয়েছেন।

তিনি বলেন, “যখনই কোনো সমস্যা হয়েছে, আমরা খুব দ্রুত সেটার সমাধান করেছি।”

শি জিনপিংয়ের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, “আপনি একজন মহান নেতা। অনেক সময় মানুষ আমার এমন মন্তব্য পছন্দ করে না, কিন্তু আমি এটা বলি, কারণ এটি সত্য।”

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে, স্বাগত অনুষ্ঠানের জন্য পরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ট্রাম্প।

১৩ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সফরে চীন সফর করছেন ট্রাম্প। গত নয় বছরের মধ্যে এটি কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর। ২০১৭ সালের নভেম্বরের পর এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় চীন সফর।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হবে।

দুই পক্ষের আলোচনায় ইরান, তাইওয়ান এবং বিরল খনিজসম্পদ অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে থাকছে।