এবারের ঈদে পদ্মা ও যমুনা সেতু দিয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক যানবাহন পারাপার এবং সর্বোচ্চ টোল আদায়ের এক নতুন মাইলফলক অতিক্রান্ত হয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে গৃহীত সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ফলে পদ্মা সেতুতে ১৭-১৯ মার্চ পর্যন্ত ৩ দিনে ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৮২ যানবাহন পারাপার হয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮০২।

এই তিন দিনে পদ্মা সেতুতে মোট টোল আদায় হয় ১৩ কোটি ২১ লক্ষ ৫১ হাজার ৮০০ টাকা,  যা ২০২৫ সালে ছিল ১২ কোটি ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা। 

একইভাবে যমুনা সেতুতে ১৮ মার্চ ১দিনে সর্বোচ্চ ৫১,৩৮৪ যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা ২০২৫ সালে ছিল সর্বোচ্চ ৪৮,৩৬৮।

একইদিনে সর্বোচ্চ মোট টোল আদায় হয় ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ৩ কোটি ৪৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৫০টাকা।

২০২৫ সালের তুলনায় এ বছর যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও বড় কোন দুর্ঘটনা বা বড় ধরণের যানজট দেখা যায়নি বলে মন্ত্রণালয়ের দাবি।

টোল কালেক্টরদের প্রশিক্ষণ প্রদান, অত্যন্ত দক্ষ টোল কালেক্টরদের নিয়োগ, সার্বক্ষণিক টোল লেন চালুর ব্যবস্থা, মোটর সাইকেল লেন বৃদ্ধি, নন-স্টপ ইটিসি চালু, মাওয়া বাস-বে উন্মুক্তকরণ, সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরার মাধ্যমে উন্নত ট্রাফিক মনিটরিং, উচ্চ পর্যায়ের সার্বক্ষণিক মনিটরিং টিম গঠনের মতো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ায় এবারের ঈদে এত টোল আদায় করা গেছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

দুর্ঘটনারোধে ব্যবস্থা গ্রহণ, যাত্রীদের জরুরি সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, এলেঙ্গা বাস-বে উন্মুক্তকরণ, সেতুর প্রতি ৫০০ মিটার পর পর সার্বক্ষনিক সিকিউরিটি গার্ড মোতায়েন,কর্ণফুলী টানেল থেকে আনা ১টি ভারী রেকারসহ মোট ৩টি রেকারের মাধ্যমে দ্রুত রেসকিউ কার্যক্রম সম্পন্নকরণ, ইমার্জেন্সি টোল লেন চালু ও ইফতার সামগ্রী বিতরণের মতো পদক্ষেপও নিয়েছে মন্ত্রণালয়।