মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সার আমদানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও দেশে আপাতত কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছে সরকার। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আমদানির প্রধান উৎসগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় বিকল্প হিসেবে মিশর ও চীন থেকে সার আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং অন্তত কয়েক মাস চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সল ইমাম বলেন, “স্মরণকালের সর্বোচ্চ মজুদ রয়েছে। এ বছর সারের সংকটের সম্ভাবনা নেই।”

কারখানা বন্ধ, তবুও তাৎক্ষণিক শঙ্কা নেই

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গ্যাস সরবরাহে চাপ পড়ায় পাঁচটির মধ্যে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ইউরিয়া সার কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে চালু রয়েছে শুধু শাহজালাল ফার্টিলাইজার কারখানা। বন্ধ থাকা কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম, ঘোড়াশাল, যমুনা ও আশুগঞ্জের কারখানা।

তবে কর্মকর্তারা বলছেন, বোরো মৌসুম প্রায় শেষ হওয়ায় এখন সারের চাহিদা কম। একইভাবে রবি শস্যের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের চাহিদা নেই। ফলে চলতি মৌসুমে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও সরাসরি কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা কম।

মজুদ পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মজুদ থাকা সার দিয়ে—

ইউরিয়া: জুন পর্যন্ত

টিএসপি: অক্টোবর পর্যন্ত

ডিএপি ও এমওপি: সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চাহিদা পূরণ সম্ভব

৮ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট ১৭ লাখ ২৬ হাজার টন সার মজুদ রয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

ভবিষ্যৎ চিন্তায় বিকল্প উৎস

বাংলাদেশ সাধারণত সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন ও মরক্কো থেকে সার আমদানি করে। যুদ্ধের কারণে এসব উৎসে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় সরকার নতুন বাজার খুঁজছে।

মাঠ পর্যায়ে মিশ্র চিত্র

যদিও সামগ্রিকভাবে সংকট নেই, কিছু এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি ও বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কারখানা বন্ধের খবরকে কাজে লাগিয়ে কিছু ডিলার অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

তবে জামালপুর ও দিনাজপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বোরো মৌসুমের চাহিদা আগেই পূরণ হওয়ায় বর্তমানে বড় ধরনের সমস্যা নেই। প্রশাসন কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়িয়েছে।

সামনে কী?

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে গ্যাস সংকট ও আমদানি ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। তাই ভবিষ্যতের বোরো মৌসুমের জন্য এখন থেকেই মজুদ বাড়াতে এবং বিকল্প উৎস নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার।

সার্বিকভাবে বলা যায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ থাকলেও তাৎক্ষণিক সংকট নেই—তবে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে।