তেল পাম্পের রেশনিং তুলে দেওয়ার কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও রোববার দিনভর পরিস্থিতি ছিল গত সপ্তাহের মতোই। অনেক তেল পাম্পে তেল দেওয়াই হচ্ছে না, আর যেগুলোতে দেওয়া হচ্ছে সেগুলোতে দিনভর ছিল লম্বা লাইন।
তেল দেওয়া হচ্ছে আগের নিয়মেই। অর্থাৎ সাধারণ বাইকে ২০০ টাকার, রাইড শেয়ারিং বাইকে ৫ লিটার করে; আর প্রাইভেট কারে দেওয়া হচ্ছে ১০ লিটার করে।
তেল পাম্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি অর্ডার এবং সে অনুযায়ী স্বাভাবিক সরবরাহ এখনো পাম্পে এসে পৌঁছেনি। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে ৩–৪ দিন সময় লাগবে।
শনিবারই সরকারের পক্ষ থেকে রেশনিং তুলে নেওয়ার আভাস দেওয়া হয়েছিল। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, “আজ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোনো রেশনিং থাকছে না। সবাই চাহিদামতো তেল কিনতে পারবেন।”
সরকার রেশনিং তুলে নেওয়ার কথা বললেও পাম্পগুলোতে সেই সরবরাহ না পৌঁছানোয় রোববার পরিস্থিতি বদলায়নি। উল্টো রেশনিং না থাকার খবর শুনে তেল নিতে বেরিয়ে পাম্পে পাম্পে ঘুরে নাকাল হয়েছেন অনেকে, ক্ষোভটাও তাই বেশি।
রোববারও রাজধানীর এলেনবাড়ি এলাকার (বিজয় সরণি) ট্রাস্ট পাম্পের লাইন যথারীতি জাহাঙ্গীর গেট ছাড়িয়েছে।
এক চিকিৎসকের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক গোলাম মাওলা বলেন, “উত্তরা, কুড়িল ওদিকটায় ঘুরে এখানে লাইনে দাঁড়ালাম। ওদিকে তেলই দিচ্ছে না।”
ট্রাস্ট পাম্পে এখনো রেশনিং করেই তেল দেওয়া হচ্ছে। পরীবাগের সরকারি মেঘনা পাম্পেও বিরাট লাইন দেখা যায়। তার পাশের পূর্বাচল পাম্পে তেলই দেওয়া হচ্ছে না।
পরীবাগের পাম্পে জ্বালানি ভরে ফিরে যাওয়ার সময় কথা হয় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি হামিদার রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, “প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় নিয়ে ৫ লিটার তেল পেয়েছি। বলছিলাম ট্যাংক ভরে দিতে। ওরা বলল যে, এখনো ‘অর্ডার হয়নি’।”
মেঘনা পাম্পের ম্যানেজার মীর আজিম বলেন, “সরকারি সিদ্ধান্তের কপিটা এখনো আমরা হাতে পাইনি। পেলেই সে অনুযায়ী তেল বিতরণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তার আগ পর্যন্ত আমাদের রেশনিং করতে হচ্ছে।”
ফেসবুকে জ্বালানি তেল বিষয়ক গ্রুপ ‘ফুয়েল আপডেট বাংলাদেশ’-এ বিকেল ৪টা ৩৯ মিনিটে আরাফাত আরমান নামে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “তেল নাকি আগের মতো পাওয়া যাবে, কিন্তু এরা তো এখন একবারেই দিচ্ছে না। এমনও কিছু পাম্প আছে, যারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এখন মাত্র ২/৪ ঘণ্টা তেল দেয়। এদের বিরুদ্ধে কি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে?”
রুম্মান আলম নামে একজন লিখেছেন, “তেজগাঁওয়ের সিটি পাম্পে পৌনে ৩টার দিকে দিচ্ছিল না। ক্লিন ফুয়েল প্যাকড আর তাহশোফা ফিলিং স্টেশনে বাইকে ৩০০ টাকা করে দিচ্ছে।”
কাজী বাশিরুল ইসলাম লিখেছেন, “দুপুর ২টা ২১ মিনিট থেকে কালশীর সুমাত্রা পেট্রোল পাম্পে তেল দেওয়া শুরু হয়েছে। নরমাল রাইডারদের ২ লিটার এবং রাইড শেয়ার ও ডেলিভারি ম্যানদের জন্য ৫ লিটার দিচ্ছে।”
তার নিচে ফরিদ আহমেদ চৌধুরী লিখেছেন, “সুমাত্রার সামনে এক কিলোমিটার লাইন। অন্ধ সরকার তেলের গল্প দিয়েই যাচ্ছে।”
‘বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, সরকার ইতোমধ্যে রেশনিং বন্ধ করার কথা বললেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে তিন–চার দিন লেগে যাবে।
তিনি বলেন, “সব জায়গায় তেলের সাপ্লাইটা তো যেতে হবে। এখন সব জায়গার পাম্পগুলো তেলশূন্য। সরকারের এই অর্ডার সব জায়গায় পৌঁছানো, পেমেন্ট করে গাড়ি পাঠানো, তেল নিয়ে আসা—সব মিলিয়ে কিছুটা সময় তো লাগবে।”
পূর্বের পোস্ট :