পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গঠিত স্বাধীন জাতীয় তদন্ত কমিশনের সুপারিশ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। এ বিষয়ে নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে না বলেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

জাতীয় শহীদ সেনা দিবসে বনানী সামরিক কবরস্থানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় স্বাধীন জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। তারা প্রতিবেদন দিয়েছে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা ক্ষমতায় এসেছি। কিন্তু ওই প্রতিবেদনের বাস্তবায়নে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’

এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্তে নতুন কমিশন গঠনের কথা বলেছিলেন। বুধবার সে বক্তব্য সংশোধন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েকদিন আগে পুরো প্রতিবেদন না দেখে কিছু কথা বলেছি। আজ তা সংশোধন করছি। আমরা নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন করব না।’

তিনি জানান, কমিশনের প্রায় ৭০টি সুপারিশ রয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো বাস্তবায়নাধীন। বিচারিক মামলাগুলোর কিছু আপিল পর্যায়ে এবং কিছু আপিল বিভাগে রয়েছে। ‘জুডিশিয়াল প্রসেস’ সময়মতো সম্পন্ন করা হবে এবং অন্যান্য সুপারিশ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন সরকার যে কমিটি করেছিল, তাদের প্রতিবেদন শেষ পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। তিনি আশ্বাস দেন, ‘পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার হবে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।’

এ হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার লক্ষ্য ছিল। যারা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না, তারাই দুর্বল রাষ্ট্র হিসেবে দেশকে দেখতে চায়।’

পটভূমি ও কমিশনের পর্যবেক্ষণ

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) সদরদপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোড়ন তোলে এ ঘটনা।

পরে বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দেড় দশক পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুনঃতদন্তের দাবি ওঠে। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হয় এবং গত ডিসেম্বরে তারা প্রতিবেদন জমা দেয়।

প্রতিবেদনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘সবুজ সংকেত’ থাকার অভিযোগের পাশাপাশি তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ‘সরাসরি জড়িত থাকার শক্তিশালী প্রমাণ’ পাওয়ার কথা বলা হয়। এতে ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিল বলে উল্লেখ করা হয় এবং সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপসকে ‘প্রধান সমন্বয়ক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

কমিশনের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমান সে সময় দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের দায় তৎকালীন সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে সেনাপ্রধান পর্যন্ত বিস্তৃত। পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোরও চরম ব্যর্থতা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ভবিষ্যতে বাহিনীগুলোতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কমিশন একাধিক সুপারিশ করেছে। সরকার জানিয়েছে, সেসব সুপারিশ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।