বিশ্ব ক্যান্সার দিবস (৪ ফেব্রুয়ারি) উপলক্ষে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যচর্চা জোরদার করার লক্ষ্যে ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) ‘আমরা নারী’ ও আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি-এর যৌথ উদ্যোগে হোসনা সেন্টার, ১০৬ গুলশান এভিনিউ-এ আইপিডিসি ফাইন্যান্সের কর্পোরেট অফিসে ক্যান্সার ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. মোঃ খাদেমুল বাশার, সহকারী অধ্যাপক, ডিরেক্টরেট জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসেস (DGHS), মহাখালী, ঢাকা এবং ডা. তানজিনা আফরিন, এমবিবিএস, ডিসিপি, এমসিপিএস (হেমাটোলজি), সহযোগী কনসালট্যান্ট, হেমাটোলজি বিভাগ, ইউনিকো হাসপাতাল, গ্রিন রোড, ঢাকা।

ডা. খাদেমুল বাশার বলেন, “ক্যান্সার এখন আর শুধু চিকিৎসার বিষয় নয়, এটি একটি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সচেতন জীবনযাপন ক্যান্সার প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে অনেক ক্ষেত্রেই ক্যান্সার সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।”

ডা. তানজিনা আফরিন বলেন, “রক্তরোগ ও ক্যান্সার সম্পর্কিত অনেক জটিলতা দ্রুত শনাক্ত করা গেলে রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব। তাই লক্ষণকে অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং-ই হতে পারে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা।”

‘আমরা নারী’-এর প্রতিষ্ঠাতা এম এম জাহিদুর রহমান বিপ্লব অনুষ্ঠানে বলেন, “আমাদের সংগঠন একটি অরাজনৈতিক ও অলাভজনক সামাজিক সংগঠন, যার মূল লক্ষ্য নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক কল্যাণ ও মানবিক উন্নয়ন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য—এই পাঁচটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে আমরা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছি। ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করে আমরা সচেতন ও মানবিক সমাজ গঠনের আন্দোলন গড়ে তুলেছি, যার ধারাবাহিকতায় আজকের এই আয়োজন।”

সেমিনারের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ, আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা, সময়মতো রোগ নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসা পরামর্শ গ্রহণ এবং জীবনযাপন-সংক্রান্ত ঝুঁকিপূর্ণ কারণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়।

আয়োজকরা জানান, স্বাস্থ্য শিক্ষা, গণমাধ্যম ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করা হবে।