পারিবারিক সমস্যায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেছেন এক পাকিস্তানি নাগরিক।
ঘটনাটি ঘটে ২০ জানুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে (আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী ১২টার পর ২১ জানুয়ারি, বুধবার)। উত্তরা সেক্টর ১৮ থেকে ফোন করা ওই ব্যক্তি নিজেকে পাকিস্তানি নাগরিক পরিচয় দিয়ে জানান, তিনি একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার এবং বাংলাদেশের একটি রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।
কলার জানান, চার বছর আগে তিনি এক বাংলাদেশি নারীকে বিয়ে করেন। তাঁদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। তাঁর মাসিক বেতন দুই লাখ টাকা। বেতনের সিংহভাগ স্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার পরও বিভিন্ন অজুহাতে আরও টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে—এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলে স্ত্রী তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করছেন বলেও জানান।
একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে কলার বলেন, তিনি গাড়ি চালাতে চালাতে ফোন করছেন, মানসিকভাবে তিনি চরম বিপর্যস্ত এবং আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ সময় ৯৯৯-এর কলটেকার তাঁকে শান্ত হতে এবং গাড়ি থামাতে বারবার অনুরোধ করেন। পাশাপাশি আইনি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। কলারের দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর কথা বলিয়ে দেওয়া হয়।
৯৯৯ সূত্র জানায়, কলটি গ্রহণ করেন ৯৯৯ কলটেকার কনস্টেবল বায়েজিদ। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় ও তদারকি করেন ৯৯৯ ডিসপাচার এসআই সাব্বির আহমেদ নিক্সন।
সংবাদ পেয়ে তুরাগ থানার একটি পুলিশ দল কলারের বাসায় যায়। পরে তাঁর সহকর্মী ও বন্ধুদের খবর দিয়ে বাসায় আনা হয়। এ ছাড়া কলারের শাশুড়িও সেখানে উপস্থিত হন।
এ সময় কলারের স্ত্রী অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী প্রায়ই গভীর রাতে বাসায় ফেরেন। সবার উপস্থিতিতে পুলিশ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে স্বামী বা স্ত্রী কেউই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে রাজি হননি। ভবিষ্যতে আইনি সহায়তার প্রয়োজন হলে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেয় পুলিশ।
পূর্বের পোস্ট :