জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনায় গড়মিল দেখা দিয়েছে। ওএমআর (অপটিকাল মার্ক রিকগনিশন) মেশিনে একটি ভোটের পার্থক্য ধরা পড়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ভোট গণনার কাজ বন্ধ রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, গণনার সঠিকতা যাচাই করতে গিয়ে একটি ভোটে গড়মিল ধরা পড়লে সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে আর গণনা এগোয়নি। রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত গণনার কাজ পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়নি।
নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলাম রাত সাড়ে ৯টার দিকে মাইকে ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘ওএমআর মেশিনে আমরা তিন দিন ট্রায়াল করেছি, তখন কোনো সমস্যা ছিল না। টেকনিক্যাল কারণে ত্রুটি ধরা পড়েছে। এখন কেন্দ্রীয় ও হল সংসদের ভিপি-জিএস প্রার্থীদের নিয়ে উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে বসব। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আমরা মিডিয়াকে জানিয়ে দেব।’
মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও একটি হলের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়। পরে সব ব্যালট বাক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আনা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ছয়টি ওএমআর মেশিনে কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনা শুরু হয়।
তবে মিলনায়তনে ভিড় বেড়ে গেলে প্রায় ১৫ মিনিট পর গণনা স্থগিত করা হয়। শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের বের করে দিয়ে আধা ঘণ্টা পর ফের গণনা শুরু হলেও সন্ধ্যা ৭টার দিকে গড়মিল ধরা পড়ায় আবারও গণনার কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
ভোট গণনার কাজে যুক্ত এক ব্যক্তি জানান, জকসুর ২১টি পদের জন্য প্রতিটি ভোটার তিন পাতার ওএমআর শিটে ভোট দিয়েছেন। প্রার্থীদের ডান পাশে বর্গাকার ছোট বক্সে ক্রস (X) চিহ্ন দিয়ে ২১টি ভোট দিতে হয়েছে।
শুরুতে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ভোট গণনা করা হয়। একজন ভোটারের তিন পাতার ব্যালট তিনটি আলাদা ওএমআর মেশিনে দেওয়া হয়। পরে সেই একই ব্যালটের তিন পাতা অন্য তিনটি মেশিনে দিয়ে ফল যাচাই করা হলে একটি ভোটের পার্থক্য দেখা যায়।
এই পার্থক্য কেন হচ্ছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব না হওয়ায় নির্বাচন কমিশন ভোট গণনার কাজ স্থগিত রাখে।
রাত ৯টার দিকে অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দুইবারে গণনার ক্ষেত্রে আমরা অ্যাডজাস্ট করার চেষ্টা করছি। প্রতিবন্ধকতা কোথায় হয়েছে, সেটা ফাইন্ড আউট করে কিছুক্ষণের মধ্যে জানাব।’
তবে সমস্যার উৎস চিহ্নিত করতে না পারায় পরে ভিপি ও জিএস প্রার্থীদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসার ঘোষণা দেন তিনি।
সমস্যার সমাধান না হলে কী করা হবে—এমন প্রশ্নে নির্বাচন কমিশনের এক সদস্য বলেন, ‘সেক্ষেত্রে হাতে গণনার কথা ভাবতে হবে।’
জকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১৬ হাজার ৬৪৫ জন। এর মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে আগে ধারণা দিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনার জুলফিকার মাহমুদ।
একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল সংসদের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়। ওই হল সংসদের মোট ভোটার ছিলেন ১ হাজার ২৪২ জন, সেখানে ভোট পড়েছে প্রায় ৭৭ শতাংশ। হল সংসদের ব্যালট ছিল এক পাতার হলেও সেসব ভোটের গণনা এখনো শুরু হয়নি।
পূর্বের পোস্ট :