রাজধানীর গুলশান-২ থেকে প্রগতি সরণি পর্যন্ত একটি সড়কের নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘ফেলানী অ্যাভিনিউ’— পদত্যাগের আগে মঙ্গলবার এক ফেসবুক বার্তায় এ তথ্য জানান অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে উপদেষ্টা লেখেন, ‘সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত কিশোরী ফেলানীর স্মরণে ডিপ্লোমেটিক জোনের গুলশান-২ থেকে প্রগতি সরণি পর্যন্ত সড়কটির নতুন নাম ‘ফেলানী অ্যাভিনিউ’।

তবে রাস্তার নামকরণ ও এ সংক্রান্ত বিষয়ে ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয় সিটি করপোরেশন। সে হিসাবে এলাকার বিচারে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এ রাস্তার নামকরণের এখতিয়ার রাখে।

নামকরণের ব্যাপারে নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, “আনুষ্ঠানিকভাবেই ডিএনসিসি গুলশান-২ থেকে প্রগতি সরণি সড়কের নাম ফেলানী অ্যাভিনিউ করেছে। নথিপত্রের সব কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।”

কবে নাগাদ ফেলানী অ্যাভিনিউর নামফলক উন্মোচন হতে পারে— এ ব্যাপারে এজাজ বলেন, “ডিসেম্বরের যেকোনো সময়ে নতুন নামের নামফলক বসিয়ে উদ্বোধন করা হবে ফেলানী অ্যাভিনিউ।”

উল্লেখ্য, ভারত থেকে বাবার সঙ্গে দেশে ফেরার পথে ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয় ১৫ বছরের ফেলানী খাতুন। তার মরদেহ কাঁটাতারে চার ঘণ্টার বেশি সময় ঝুলে ছিল। ঝুলে থাকা ফেলানীর মরদেহ আলোড়ন তোলে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে।

তার পর থেকে অনেকবার ভারতীয় দূতাবাসের সামনের রাস্তাকে শহীদ ফেলানি সড়ক করার দাবি তোলেন।

২০২৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে গুলশানে ভারতীয় দূতাবাসের সামনের সড়ককে ‘শহীদ ফেলানি সড়ক’ ঘোষণা করে নামফলক স্থাপন করেছিল পিপলস অ্যাকটিভিস্ট কোয়ালিশন (প্যাক) নামের একটি সংগঠন। এবার সরকারিভাবেই সড়কটির নাম হলো ফেলানী অ্যাভিনিউ।