ভাইকে হত্যার নাটক সাজিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময়কে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন মোস্তফা কামাল ওরফে মোস্ত ডাকাত। জীবিত ভাই সোলায়মান সেলিমকে ‘নিহত’ দেখিয়ে তিনি যাত্রাবাড়ীতে গুলিতে হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। তবে তদন্তে সত্য উন্মোচিত হওয়ায় এখন নিজেই ফেঁসে যাচ্ছেন তিনি।

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগের তদন্তে দেখা গেছে, ৩ অগাস্ট যাকে নিহত বলে মামলা করা হয়েছিল সেই সোলায়মান সেলিম (দুলাল ওরফে সেলিম) জীবিত আছেন। এ তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইনামুল ইসলাম বাদী মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় মিথ্যা মামলা করার অভিযোগে মামলা করার অনুমতি চেয়েছেন আদালতের কাছে।

ডিবি পুলিশের ওয়ারী জোনের উপ পুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে বাদী মিথ্যা মামলা দায়ের করায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। ‘আদালত যে নির্দেশ দেবেন, সে অনুযায়ী আমরা কাজ করব।’

‘নিহত’ দেখানো সেলিম আসলে জীবিত

মামলার আবেদনে সেলিমের নাম দেওয়া হয়েছিল দুলাল ওরফে সেলিম—‘ঠিকানা’ পরিবহনের হেলপার। দাবি করা হয়েছিল, তিনি যাত্রাবাড়ীতে গুলিতে নিহত হয়েছেন। আদালতের নির্দেশে পুলিশ এজাহার গ্রহণ করে এবং ৪১ জনকে আসামি করে তদন্ত শুরু করে। পরে সন্দেহভাজন হিসেবে আরও একজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তবে তদন্তে ডিবি জানতে পারে, সেলিম জীবিত এবং তার ভাই মোস্তফা কামাল জমি নিয়ে বিরোধের কারণে তাকে ফাঁসাতে এই নাটক সাজিয়েছেন। সেলিম বলেন, ‘আমাকে মেরে জমি দখল করার পরিকল্পনা করেছে তারা। এজন্য আমাকে খুন দেখিয়ে মামলা করেছে।’

তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার বেলতলী বাজারে স্ত্রী–সন্তানকে নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

শেখ হাসিনাসহ ৪২ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

তদন্ত শেষে গত ৩০ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ডিবি। এতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪২ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়।

অব্যাহতির সুপারিশ পাওয়া অন্যদের মধ্যে আছেন

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, রমেশ চন্দ্র সেন, আসাদুজ্জামান নুর, সাবেক এমপি শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানসহ আরও অনেকে। তারা সবাই পলাতক হিসেবে মামলায় দেখানো ছিলেন।

গ্রেপ্তার দেখানো দুই আসামি মোহাম্মদ উল্লাহ পাটোয়ারী ও মিরাজ খানকেও অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

মিরাজ খানের আইনজীবী রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, ‘হত্যাই ঘটল না, তারপরও তাকে হয়রানি করে আসামি করা হয়েছে। রাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করার অধিকার তার আছে।’

বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাওয়া

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সোলায়মান সেলিমকে ভবিষ্যতে হত্যা করে লাশ গুম করে সম্পত্তি দখল ও আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে মোস্তফা কামাল মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন’।

তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের কাছে বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার অনুমতি চেয়েছেন। এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ২১ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

মামলার বাদী মোস্তফা কামালের মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।