সারাদেশে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বুধবার থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।

মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা করে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সংগঠন ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’।

বিবৃতিতে বলা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে ২২ দিন অতিবাহিত হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বুধবার থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ বা ‘তালাবদ্ধ কর্মসূচি’ ঘোষণা করা হয়েছে।

‘তিন দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার পরীক্ষা বর্জন এবং বিদ্যালয়ে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চলবে।’

শিক্ষকদের কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের চারজন আহ্বায়ক— মো. আবুল কাসেম, মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ, খাইরুন নাহার লিপি, মু. মাহবুবুর রহমান— এবং ২০২৩ ও ২০২৫ ব্যাচের শিক্ষকদের শোকজ করার প্রতিবাদে বুধবার বেলা ১১টায় দেশের প্রতিটি উপজেলা শিক্ষা অফিসের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ হবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।

প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের তিন দফা দাবি হল— সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল দশম গ্রেডে নির্ধারণ; ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির বিষয়ে জটিলতার অবসান; সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘প্রতিশ্রুত যৌক্তিক দাবিসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন করে শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে গিয়ে পরীক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় সারাদেশে একযোগে প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকের কাছে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

‘আমরা আশা করি প্রধান উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহকারী শিক্ষকদের প্রতিশ্রুত যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহের অচলাবস্থা নিরসন করে শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে পরীক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করে দেবেন।’