ভোলা–বরিশাল সেতু নির্মাণসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকায় শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন ঢাকাস্থ ভোলা জেলার বাসিন্দারা। শুক্রবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে তারা শাহবাগে অবস্থান নিলে চারদিকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন শাহবাগ থানার ওসি মো. খালিদ মনসুর।
ওসি বলেন, ‘আমরা তাদেরকে বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। পরিস্থিতি মোকাবেলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’
দাবি নিয়ে ধারাবাহিক আন্দোলন
ভোলা–বরিশাল সেতুর দাবিতে স্থানীয় ও ঢাকাস্থ ভোলাবাসীরা কয়েক সপ্তাহ ধরে নানা কর্মসূচি পালন করছেন। এর অংশ হিসেবে শুক্রবার বিকালে কয়েকশ বিক্ষোভকারী ব্যানার–ফেস্টুন নিয়ে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। তারা সেতু নির্মাণের পাশাপাশি ভোলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং গ্যাস সংযোগেরও দাবি জানান।
উপদেষ্টাদের অবরোধের ঘটনাও স্মরণীয়
এর আগে ১৪ নভেম্বর ভোলায় সফররত অন্তর্বর্তী সরকারের তিন উপদেষ্টাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবরুদ্ধ করে আন্দোলনকারীরা। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিনকে অন্তত ২০ মিনিট আটকে রাখা হয় ‘আমরা–ভোলাবাসী’ সংগঠনের ব্যানারে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের পাঁচ দফা দাবির বিষয়ে আলোচনা শেষে ডিসেম্বরেই সেতু নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান পরে জানান, সেতুর নকশা প্রক্রিয়াই এখনো শুরু হয়নি; নীতিগত সিদ্ধান্তে বিষয়টি আটকে আছে—এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদে নেমে আসেন তারা।
নদী সাঁতরে লংমার্চের ঘটনাও আলোচিত
সেদিনই ভোলা থেকে ঢাকার সেতুভবনমুখী লংমার্চে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা তেঁতুলিয়া নদী সাঁতরে বরিশালে পৌঁছান। টানা সাঁতার কাটায় এক শিক্ষার্থী অসুস্থও হয়ে পড়েন।
আন্দোলনকারীদের পাঁচ দাবি
১. ভোলা–বরিশাল সেতু নির্মাণের দৃশ্যমান অগ্রগতি।
২. ঘরে ঘরে পাইপলাইনে গ্যাস সংযোগ।
৩. গ্যাসভিত্তিক শিল্প–কারখানা স্থাপন।
৪. ভোলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
৫. টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ
পূর্বের পোস্ট :