ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে প্লট দুর্নীতির মামলার রায়কে ঘিরে রাজধানীর আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সকাল থেকে আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশে বাড়তি পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
আদালতের প্রধান ফটকগুলোতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। কোনও ব্যক্তি ‘সন্দেহজনক’ মনে হলে তাকে তল্লাশির আওতায় আনা হচ্ছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে সাঁজোয়া যান ও প্রিজনভ্যান।
লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মল্লিক আহসান সামী বলেন, ‘রায়কে কেন্দ্র করে পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ নাশকতার সুযোগ না পায়। আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশে আমাদের প্রচুর সদস্য মোতায়েন আছে।’ পুলিশ ছাড়াও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও দায়িত্ব পালন করছে বলে জানান তিনি।
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠার তিনটি প্লট বরাদ্দে শেখ হাসিনা, জয় ও পুতুল দুর্নীতি করেছেন কি না—সেই সিদ্ধান্ত আজ জানাবেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এই তিনজন ছাড়াও মামলাগুলোতে আরও ২০ জন আসামি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেবল রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম কারাগারে আছেন; রায় ঘোষণার সময় তাঁকে আদালতে হাজির করা হবে।
অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার ও কাজী ওয়াছি উদ্দিনসহ রাজউকের বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা।
গত বছরের ৫ অগাস্ট ক্ষমতার পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ আমলের অনিয়ম–দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। এর মধ্যে শেখ হাসিনার প্রথম দুর্নীতি মামলার রায় আজ ঘোষণা হতে যাচ্ছে।
পূর্বের পোস্ট :