রাশিয়ার হামলা আরও তীব্র হওয়ার মধ্যে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় মিত্ররা সোমবার কিয়েভে বৈঠকে বসছে। বৈঠকে ইউক্রেনের জন্য জরুরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ বাড়ানো এবং মস্কোর ওপর আরও চাপ তৈরির বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা ২০২২ সালের যুদ্ধ শুরুর প্রথম কয়েক মাসের পর এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ নামে পরিচিত এই জোটের বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির নেতারা।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম আন্তর্জাতিক সফরে কিয়েভে যাচ্ছেন। আর কয়েকটি দেশের নেতা অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তাও বৈঠকে অংশ নিতে কিয়েভে যাওয়ার কথা রয়েছে।
যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠার মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া কিয়েভে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে এবং রাজধানীতে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন।
রাশিয়ার হামলা বেড়ে যাওয়ায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর প্রথম কয়েক মাসের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
প্রায় প্রতিটি হামলার পরই কিয়েভের মেট্রো স্টেশনগুলোতে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিচ্ছেন। আরও অনেকে শহরের বিভিন্ন বেসমেন্ট ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। প্রতিটি হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রকাশ্যে আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
-যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সহায়তা-
সোমবার ইউক্রেন স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছে। একই সঙ্গে দিনটি ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর সাড়ে চার বছর পূর্তির দিন।
কিয়েভে যাওয়ার আগে এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম বলেন, ‘আমাদের দৃঢ় সংকল্প নিয়ে রাশিয়ার কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়। ন্যায়সংগত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা পিছিয়ে যাব না।’
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় এই সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কার্যত স্থবির হয়ে আছে।
ইউক্রেনের ব্যাপক এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার বা ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে রাশিয়া। তবে কিয়েভ এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইউক্রেনের মতে, এসব শর্ত মেনে নেওয়া কার্যত আত্মসমর্পণের শামিল এবং এর ফলে রাশিয়া ভবিষ্যতে আবারও হামলা চালানোর সুযোগ পাবে।
এদিকে শনিবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউক্রেনকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনকে তার আকাশ রক্ষা এবং এই আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সক্ষমতা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
রাশিয়া যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যবহার করছে, সেগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতির এবং অনেক উঁচু পথ ধরে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ছুটে যায়। ফলে এগুলোকে মাঝপথে ধ্বংস করা কঠিন।
ইউক্রেনের নিজস্ব অস্ত্র ব্যবস্থা এসব ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে সক্ষম নয়। ফলে আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য দেশটি উন্নত প্রযুক্তির ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বজুড়ে এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি দেখা দেওয়ায় ইউক্রেন পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে।
পূর্বের পোস্ট :