মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের ক্লাং বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবৈধ অভিবাসন এবং আইন লঙ্ঘনকারী ব্যবসায়িক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)।

রোববার (১২ জুলাই) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে শুরু হওয়া এ আকস্মিক অভিযানে এলাকার বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট ও হোস্টেলে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সেখানে বসবাস ও কর্মরত এক হাজারেরও বেশি বিদেশি নাগরিকের পরিচয়পত্র, ভিসা এবং অন্যান্য অভিবাসন-সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

অভিযানে বাংলাদেশ, নেপাল, মিয়ানমার ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত কতজনকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের পর সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে পুত্রজায়ার ইমিগ্রেশন সদর দপ্তর, বিভিন্ন রাজ্যের ইমিগ্রেশন বিভাগ, অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয় (কেপিডিএন), কোম্পানি কমিশন অব মালয়েশিয়া (এসএসএম) এবং জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন)-এর কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসন দমন এবং আইন লঙ্ঘনকারী ব্যবসায়িক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সরকারের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির অংশ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের সময় বিদেশিদের বৈধভাবে অবস্থান, ভিসার শর্ত মেনে চলা এবং অনুমোদিত কর্মস্থলেই কাজ করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়।

অভিযানের সময় উপস্থিত কয়েকজন বাংলাদেশি জানান, যাদের বৈধ ভিসা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল, যাচাই শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বৈধ কাগজপত্র না থাকা এবং একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ভিসা নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

অভিযান চলাকালে একটি হোটেলেও তল্লাশি চালানো হয়। পাশাপাশি অন্তত দুটি স্থানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গরুর মাংস প্রক্রিয়াজাত করার কার্যক্রমেরও সন্ধান পান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিষয়গুলো তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আটক ব্যক্তিদের সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে আটকের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসন ও আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।