মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের জালান পেতালিং এলাকায় নকল ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল জার্সি বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ছয় বিদেশি কর্মীকে আটক করেছে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয় (কেপিডিএন)।

শুক্রবার সন্ধ্যায় পরিচালিত এ অভিযানে একটি গুদাম ও চারটি খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রসহ মোট পাঁচটি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানের সময় কয়েকজন বিদেশি কর্মী পালানোর চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের আটক করতে সক্ষম হন।

কুয়ালালামপুর কেপিডিএনের প্রধান প্রয়োগ কর্মকর্তা মোহদ শাহরান মোহদ আরশাদ জানান, অভিযানে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার ১৫০ রিঙ্গিত মূল্যের ৫ হাজার ৪০৩টি সন্দেহভাজন নকল ফুটবল জার্সি জব্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন নারীও আছেন। সবার বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁরা স্থানীয় একটি চক্রের হয়ে বেতনভুক্ত কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন।

মোহদ শাহরান জানান, পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে প্রতিটি জার্সি প্রায় ৫০ রিঙ্গিতে বিক্রি করা হলেও বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে একই জার্সির জন্য ১০০ রিঙ্গিতের বেশি নেওয়া হতো।

তদন্তে আরও জানা যায়, দোকানগুলোতে গ্রেড–এ ও গ্রেড–বি মানের নকল জার্সি বিক্রি করা হতো। অভিযানে জব্দ করা গুদামে খেলোয়াড়দের নাম ও জার্সি নম্বর ছাপানোর বিশেষ যন্ত্রও পাওয়া গেছে।

কর্তৃপক্ষের ধারণা, বিশ্বকাপ মৌসুমে এই চক্র প্রতিদিন প্রায় ১০০টি জার্সি বিক্রি করে সর্বোচ্চ ৫ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত আয় করত।

প্রাথমিক তদন্তে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক চক্রের সংশ্লিষ্টতার তথ্য মিলেছে। এখন ব্যবসার প্রকৃত মালিক, ভাড়ার চুক্তি এবং এ কর্মকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

মোহদ শাহরান জালান পেতালিং এলাকায় নকল পণ্য বিক্রির তথ্য পেলে তা কেপিডিএনকে জানানোর জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।