অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে এসে জননেতায় পরিণত হওয়া চন্দ্রশেখরন জোসেফ বিজয়, যিনি ‘থালাপতি বিজয়’ নামে পরিচিত, ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তার সঙ্গে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন আরও ৯ জন।
রোববার চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে থালাপতির দল তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজগমের (টিভিকে) নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানসহ থালাপতির অসংখ্য সমর্থক।
অনুষ্ঠানস্থলে থালাপতিকে স্বাগত জানান রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আর্লেকর। সেখানে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের পর জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। এরপর তামিল ভাষায় মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেন থালাপতি বিজয়।
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসনে জয় পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি টিভিকে। তবে বিজয় দুটি আসনে জয়ী হওয়ায় দলের কার্যকর আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৭।
পরে ৫টি আসনে জয়ী কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গঠন করলে টিভিকের আসন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১২। কিন্তু সরকার গঠনের জন্য ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় প্রয়োজন ছিল অন্তত ১১৮টি আসন।
শুক্রবার বাম দল সিপিএম ও সিপিআই টিভিকেকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দেয়। দুই দলের চারটি আসন যোগ হলেও জোটের আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১১৬। এরপরও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য আরও দুই আসনের ঘাটতি ছিল।
শনিবার দ্রাবিড় তামিল জাতীয়তাবাদী দল ভিডুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) টিভিকের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন জানায়। এই দুই দলের চারটি আসন যুক্ত হলে টিভিকে নেতৃত্বাধীন জোটের আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১২০-এ। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘ম্যাজিক ফিগার’ অতিক্রম করে তারা।
এর মধ্য দিয়ে চার দিন ধরে চলা রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান হয়। পরে টিভিকে প্রধান থালাপতি বিজয় রাজ্যপাল আর্লেকারের কাছে ১২০ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র জমা দেন। এরপরই সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান রাজ্যপাল।
এর আগে বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার— টানা তিন দিন সরকার গঠনের দাবি নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিজয়। তবে প্রয়োজনীয় সমর্থন না থাকায় তখন তার দাবি গ্রহণ করা হয়নি।
পূর্বের পোস্ট :