হরমুজ প্রণালি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর অবশেষে খুলে দেওয়া হচ্ছে বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ। তবে কঠোর শর্ত ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেই জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে ইরান।
বৃহস্পতিবার ইরান জানায়, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হলেও দিনে সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ চলাচল করতে পারবে। এর বেশি জাহাজকে অনুমতি দেওয়া হবে না। প্রতিটি জাহাজকে আগে থেকে ইরানের অনুমোদন নিতে হবে এবং নির্ধারিত প্রটোকল মেনে চলতে হবে।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদ-এ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকের প্রাক্কালে রুশ বার্তা সংস্থা তাসকে এক ইরানি কর্মকর্তা জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে দিনে ১৫টিরও কম জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
আইআরজিসির নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা
জাহাজ চলাচল এখন থেকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও আগের মতো স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিশ্বের মোট অশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এর ওপর নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।
যুদ্ধের প্রভাব ও হুমকি
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর মধ্যে সংঘাত শুরুর পর তেহরান কার্যত এই প্রণালি অবরুদ্ধ করে দেয়। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়।
হরমুজ খুলে না দিলে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন।
নতুন রুট ও ঝুঁকি
ইরান জানিয়েছে, জাহাজগুলোকে প্রচলিত ওমান উপকূলঘেঁষা পথ ছেড়ে এখন ইরানের উপকূলের কাছাকাছি নতুন রুট ব্যবহার করতে হবে। আইআরজিসি প্রকাশিত নতুন মানচিত্র অনুযায়ী, প্রধান ট্রাফিক জোনে মাইন থাকার আশঙ্কা থাকায় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
টোল আরোপের পরিকল্পনা
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি জাহাজ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে তেহরান। এছাড়া প্রতি ব্যারেল তেল পরিবহনে ১ ডলার করে ফি নেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।
এই অর্থ যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যবহার করা হতে পারে বলে জানিয়েছে ইরান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, “যুদ্ধবিরতির সময় জাহাজ চলাচল অবশ্যই ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয় এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় পরিচালিত হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে এই নিয়ন্ত্রিত চলাচল বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা বজায় রাখতে পারে এবং তেলের দামে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
পূর্বের পোস্ট :