ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালের হাম পৃথকীকরণ ওয়ার্ডে তিন দিনে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হলো।

এ ঘটনায় চিকিৎসাধীন শিশুদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়েছে। অসুস্থ শিশুদের চিন্তায় অনেক পরিবারের ঈদের আনন্দও ম্লান হয়ে গেছে।

হাম পৃথকীকরণ ওয়ার্ডে ভর্তি এক শিশুর মা রায়েবা আক্তার বলেন, “কাল ঈদ, কিন্তু আমাদের পরিবারে কোনো আয়োজন নেই। ছেলেকে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে আছি।

“ছেলের কষ্টে আর আমাদের দৌড়াদৌড়িতে এখন হাঁপিয়ে উঠেছি। আল্লাহর রহমত ছাড়া ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফেরা সম্ভব নয়।”

চিকিৎসাধীন আরেক শিশুর স্বজন ব্যাংক কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, “১০ মাস বয়সী ভাগনেকে নিয়ে গত এক মাস ধরে ছোটাছুটি করছি। প্রতিদিন ওয়ার্ডে শিশু মারা যাওয়ায় আতঙ্ক কোনোভাবেই কাটছে না।

“তবে ভাগনে আগের চেয়ে একটু ভালো আছে। হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র থাকলে এত চিন্তা করতাম না।”

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, টিকার কার্যকারিতা শুরু হওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমে আসছে।

বুধবার সকালে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ ভান্ডার কর্মকর্তা ডা. ঝন্টু সরকার জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বাসিন্দা ওই শিশুকে গত ২০ মে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

পরে রাতে মারা যায় পাঁচ মাস বয়সী আরেক শিশু। নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বাসিন্দা ওই শিশুকে ৬ মে হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ১৪ শিশু। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৭ শিশু। বর্তমানে হাম পৃথকীকরণ ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ৪৭ শিশু।

গত ১৭ মার্চ থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ৬২৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ৫৩৫ শিশু।

হাম পৃথকীকরণ ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও সহযোগী অধ্যাপক মোহা. গোলাম মাওলা বলেন, “হামের টিকা নেওয়া শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সংক্রমণ কমে আসছে। ফলে আক্রান্তের পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও কমছে। তবে যেসব শিশু মারা যাচ্ছে, তারা হামের পাশাপাশি অন্য রোগেও আক্রান্ত ছিল।”