পরিবারের সঙ্গে কোরবানির ঈদ কাটাতে বাড়ি ফেরার পথে সোমবার টাঙ্গাইলে ট্রাক উল্টে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন। কিন্তু সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরও থামছে না ট্রাক ও পিকআপে করে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা।
মঙ্গলবার গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই বাসে সিট না পেয়ে ট্রাক ও পিকআপে করেই নিজ নিজ ঝুঁকিতে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
সড়ক নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী মহাসড়কসহ সব ধরনের সড়কে ট্রাকসহ পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ। তবু প্রশাসনের পক্ষে তা পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না।
নাওজোর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ সওগাত আলম বলেন, “সড়কে গাড়ির চাপ রয়েছে। সিট না পেয়ে অনেকে ট্রাক-পিকআপে উঠছেন। আইন অমান্য করে এভাবে পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী বহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের নজরে আসলেই বাধা দিচ্ছি। তবুও ঠেকানো যাচ্ছে না।”
সরেজমিনে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া বাইপাস সড়ক ও চন্দ্রা এলাকায় দেখা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের প্রচণ্ড চাপ। কোথাও কোথাও থেমে থেমে যানজট তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেকে বাসে সিট পাচ্ছেন না। আবার অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
পরিবার নিয়ে ট্রাকে চড়ে সিরাজগঞ্জে যাচ্ছিলেন আব্দুস সালাম মিয়া। তিনি বলেন, “স্ত্রী ও দুই ছেলে নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বাসের অপেক্ষায় আছি। কিন্তু কোনো বাসে সিট নেই। ভাড়াও অনেক বেশি। তাই বাধ্য হয়ে ট্রাকে করে বাড়ি যাচ্ছি।”
গার্মেন্টসকর্মী সুমনা বলেন, “ট্রেন-বাসের টিকিট পাইনি। কষ্ট করে বাড়ি গেলেও আফসোস নেই। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার আনন্দটাই বড়।”
চন্দ্রা থেকে ফুলপুর যাচ্ছিলেন লাবলু মিয়া। তিনি বলেন, “স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে কোনো বাসেই সিট পাচ্ছি না। আবার ভাড়াও বেশি। তাই পিকআপে করেই যাচ্ছি।”
রংপুর থেকে গরু নিয়ে নরসিংদী গিয়েছিলেন ট্রাকচালক রবিন। ফেরার পথে নিজের খালি ট্রাকে যাত্রী তুলছিলেন তিনি। বলেন, “রাতে গরু নামিয়ে সকালে ভোগড়া বাইপাসে এসে দেখি ঘরমুখো মানুষের ভিড়। তাই এখন যাত্রী নিয়ে যাচ্ছি। মানুষও বাড়ি যেতে পারছে, আমারও কিছু আয় হচ্ছে।”
বৃষ্টিতে বাড়ল দুর্ভোগ
ঈদযাত্রার ভোগান্তি আরও বাড়িয়েছে টানা বৃষ্টি। সোমবার মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত বৃষ্টিতে ভিজে দুর্ভোগে পড়েছেন ঘরমুখো যাত্রীরা। অনেকের কাপড়, টাকা, মোবাইল ফোন ও মালামাল ভিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ ছিল বেশি।
এদিকে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং ভোররাতে গাজীপুরের কড্ডা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের একটি ব্রিজের ওপর দুর্ঘটনার কারণে দুই মহাসড়কেই যানজট তৈরি হয়। এর প্রভাব ভোর পর্যন্ত ছিল।
বর্তমানে চন্দ্রা এলাকা থেকে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের ধীরগতি রয়েছে। কোথাও কোথাও থেমে থেমে চলছে গাড়ি।
মহানগর ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এস এম আশরাফুল আলম বলেন, “সড়কে গাড়ির চাপ আছে, তবে কোথাও পুরোপুরি যান চলাচল বন্ধ নেই। আমরা ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে কাজ করছি।”
পূর্বের পোস্ট :