এবারের কোরবানির ঈদে চট্টগ্রামে চার লাখ পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন কাঁচা চামড়ার আড়তদাররা। তবে লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় চামড়া সংরক্ষণ ব্যয় বাড়বে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন তাঁরা।

চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির হিসাবে, গত বছর কোরবানির ঈদে প্রায় তিন লাখ ৫৬ হাজার ৫০০টি চামড়া সংগ্রহ হয়েছিল। এর মধ্যে তিন লাখের বেশি ছিল গরুর চামড়া। সমিতির নেতারা বলছেন, এবার চার লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে তা কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

বাংলাদেশে পশুর চামড়ার মোট চাহিদার ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পূরণ হয় কোরবানির ঈদে জবাই করা পশুর চামড়া থেকে। তাই ঈদকেন্দ্রিক এ সময়টিই চামড়া ব্যবসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌসুম।

আগামী ২৮ মে কোরবানির ঈদ। ঈদের দিনসহ পরের দুই দিনও পশু কোরবানি চলবে। এ সময় মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ফড়িয়ারা বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া সংগ্রহ করে আড়তে বিক্রি করেন। পরে আড়তদাররা লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে ট্যানারিতে সরবরাহ করেন।

ঈদ সামনে রেখে সরকার এবার গরুর চামড়ার দাম গত বছরের তুলনায় প্রতি বর্গফুটে দুই টাকা বাড়িয়েছে। ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২ থেকে ৬৭ টাকা। ঢাকার বাইরে এই দাম ৫৭ থেকে ৬২ টাকা। খাসির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, সরকার যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে, তা সংরক্ষণের পরের দাম। অনেক কোরবানিদাতা ও মৌসুমি ব্যবসায়ী বিষয়টি বুঝতে পারেন না।

তিনি বলেন, “অনেকে মনে করেন, আড়তদাররা সরকারের নির্ধারিত দামেই সরাসরি চামড়া কিনবেন। কিন্তু একটি চামড়া সংগ্রহের পর সংরক্ষণ, পরিবহন, শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ যোগ হয়।”

আড়তদারদের হিসাবে, প্রতিটি চামড়া সংরক্ষণে প্রায় ২৬০ টাকা খরচ হয়। আবার পরিবহন, উঠানো-নামানোসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে চট্টগ্রামে বিক্রি করতে অতিরিক্ত ১১০ থেকে ১২০ টাকা লাগে। ফলে একটি চামড়া স্থানীয় ট্যানারিতে বিক্রি করতে মোট খরচ দাঁড়ায় ৩৭০ থেকে ৩৮০ টাকা। ঢাকায় পাঠাতে গেলে আরও প্রায় ১০০ টাকা খরচ বাড়ে।

লবণের দাম বাড়া নিয়ে অভিযোগ

চট্টগ্রামের আড়তদারদের অভিযোগ, কোরবানির ঈদ সামনে এলেই লবণের দাম বাড়ে। তাঁদের ভাষ্য, ১০০টি চামড়া সংরক্ষণে এক বস্তা (৭৪ কেজি) লবণ লাগে। রমজানে যে লবণের বস্তা ৫৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন সেটির দাম ৯৫০ টাকা।

মুসলিম উদ্দিন বলেন, “মাসখানেকের মধ্যে বস্তাপ্রতি লবণের দাম ৩৭০ টাকা বেড়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও মেয়রকে জানিয়েছি।”

গভীর রাতে চামড়া না আনার অনুরোধ

২০১৯ সালের মতো গত বছরও অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়া বিক্রি করতে না পেরে সড়কে ফেলে যান। তখন আড়তদারদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

তবে আড়তদার সমিতির দাবি, গভীর রাতে চামড়া নিয়ে আসায় অনেক সময় সংকট তৈরি হয়।

মুসলিম উদ্দিন বলেন, “অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী সন্ধ্যায় চামড়া বিক্রি করে আবার নতুন করে সংগ্রহ করেন। পরে গভীর রাতে আড়তে নিয়ে আসেন। কিন্তু তখন লবণ ও শ্রমিক—দুটোরই সংকট থাকে।”

তিনি আরও বলেন, “এখন প্রচণ্ড গরম। চামড়া সংগ্রহের পর রোদে বা গাড়িতে স্তূপ করে না রেখে ছায়াযুক্ত স্থানে লবণ দিয়ে রাখা উচিত। আর গভীর রাতে আড়তে না এনে সকালে আনলে সুবিধা হবে।”