সরকারবিরোধী প্রচারণা ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কনটেন্ট বা আধেয় ‘ব্লক’ ও ‘ফিল্টার’ করার সক্ষমতা বাড়াতে যাচ্ছে আলোচিত ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন্স মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)।

বুধবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এনটিএমসির জন্য ‘এক্সপানশন অব কনটেন্ট ব্লকিং অ্যান্ড ফিল্টারিং সিস্টেম (ফেজ-১)’ প্রকল্পের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের তথ্য জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোবাল ব্র্যান্ড পিএলসি’র সঙ্গে চুক্তির আওতায় এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৯৪ কোটি ৯০ লাখ ৫১ হাজার ১৩৭ টাকা।

তবে চুক্তির আওতায় এনটিএমসি কী ধরনের পণ্য বা যন্ত্রপাতি কিনবে, সে বিষয়ে সভার আলোচ্যসূচিতে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

যদিও ‘কনটেন্ট ব্লকিং অ্যান্ড ফিল্টারিং সিস্টেম’-এর মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী প্রচারণা এবং বিভিন্ন ধরনের অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের কাজ সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই করে আসছে।

বিগত সরকারের সময়ে রাষ্ট্রীয় নজরদারি কাঠামোর মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যক্তিগত জীবনে আড়িপাতার অভিযোগে এনটিএমসি নানা সমালোচনার মুখে পড়ে। সেই বিতর্কের মধ্যেই এবার সংস্থাটির কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হলো।

২০১৯ সালে এনটিএমসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সরকারবিরোধী প্রচারণা ও ইন্টারনেটে বেআইনি কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন কনটেন্ট দ্রুত ব্লক করার সক্ষমতা অর্জন করবে সংস্থাটি। তখন ‘কনটেন্ট ব্লক অ্যান্ড ফিল্টারিং সিস্টেম’ বাস্তবায়নের কথাও জানানো হয়।

জুলাই আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়াসহ বিতর্কিত নানা পদক্ষেপের কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকার এনটিএমসি বিলুপ্তির উদ্যোগ নেয়।

মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর এনটিএমসি বিলুপ্ত করে ‘সেন্টার ফর ইনফরমেশন সাপোর্ট (সিআইএস)’ নামে নতুন একটি সংস্থা গঠনের প্রস্তাব রেখে টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া অনুমোদন করেছিল।

প্রস্তাবিত ওই সংস্থাকে আধা-বিচারিক কাউন্সিলের অনুমোদন সাপেক্ষে আড়িপাতার ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশের মানদণ্ড অনুসরণ করে সংস্থাটি পরিচালনার প্রস্তাবও ছিল।

তবে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন দিয়ে বিদায় নেওয়ার পর অধ্যাদেশটি আর কার্যকর হয়নি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারসংক্রান্ত আগের সরকারের বেশ কিছু অধ্যাদেশ সংসদে পাস না করায় এনটিএমসি বিলুপ্তির বিষয়টি ঝুলে যায়।

এর মধ্যেই সংস্থাটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে নতুন সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন এলো।

এদিন ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এক কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্র্যান তেল, এক কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন এবং ২০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়।