রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলার আসামিপক্ষে আইনি সেবা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা।

শুক্রবার ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কালাম খান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “কার্যনির্বাহী কমিটি জুম মিটিং শেষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আসামিপক্ষে সমিতির কোনো সদস্য অংশ নেবে না।”

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূইয়া বলেন, “নিষ্পাপ শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে অত্যন্ত ঘৃণিত ও গুরুতর অপরাধ করা হয়েছে। আমরা চাই সমাজে এসব অপরাধের জন্য জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হোক। সে কারণে সিদ্ধান্ত হয়েছে কোনো আইনজীবী আসামিপক্ষে অংশ নেবেন না।”

গত মঙ্গলবার দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে আট বছর বয়সী শিশু রামিসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ওই দিন সকালে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী সোহেল শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করেন এবং পরে মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর তিনি ফ্ল্যাটের গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তখন ঘরেই ছিলেন।

পরে পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে সেদিনই পল্লবী থানায় মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, পল্লবী সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকত রামিসা। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সোহেল ও স্বপ্না ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে সাবলেটে থাকতেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামিরা তাকে কৌশলে তাদের কক্ষে নিয়ে যায়।

পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার জন্য রামিসাকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তার মা আসামিদের কক্ষের সামনে মেয়েটির স্যান্ডেল দেখতে পান। পরে দরজায় সাড়া না পেয়ে তারা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। সেখানে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বাথরুমে তার মাথা পাওয়া যায়। ওই সময় স্বপ্না সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না জানান, সোহেল রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। পরে লাশ গুম করার জন্য মাথা বিচ্ছিন্ন করে বাথরুমে রাখেন এবং গ্রিল কেটে পালিয়ে যান।

এদিকে, রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্ত সংক্ষিপ্ততম সময়ে শেষ করে অভিযোগপত্র দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।