মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের শিকার নয় বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। একই ঘটনায় অবৈধভাবে তাদের দেশটিতে প্রবেশে সহায়তার অভিযোগে আরও দুই বাংলাদেশিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বারনামার বরাতে জানা গেছে, সেলাঙ্গরের পেটালিং জায়ায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ‘শফিক গ্যাং’ নামে পরিচিত বাংলাদেশি অভিবাসী পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে আটক করে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ।
গত ৫ মে ওই অভিযানের পর অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, পাচারের শিকার সন্দেহে নয়জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাচারে সহায়তাকারী চক্রের আরও দুই বাংলাদেশি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আটকদের বয়স ২০ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে। তাদের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানবিরোধী আইনে তদন্ত চলছে। বর্তমানে তাদের পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে।
বারনামার প্রতিবেদনে বলা হয়, যে বাড়িতে অভিযান চালানো হয়, সেটি অবৈধ অভিবাসীদের লুকিয়ে রাখা ও ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
জাকারিয়া শাবানকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ধারণা করা হচ্ছে আটক নয়জন বাংলাদেশি প্রায় দুই দিন আগে একটি প্রতিবেশী দেশে প্রবেশ করে সেখান থেকে পাচারের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় আনা হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার দুই বাংলাদেশি ওই ট্রানজিট হাউসের পাহারাদার হিসেবে কাজ করতেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সক্রিয় ছিল এই চক্রটি। তারা তৃতীয় দেশের রুট ব্যবহার করে কেলান্তান সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে অভিবাসীদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে আসত এবং পরে ক্লাং ভ্যালি এলাকায় পৌঁছে দিত।
অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জানান, প্রত্যেক ব্যক্তিকে মালয়েশিয়ায় আনার জন্য চক্রটি ১৫ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত নিত। এখন পর্যন্ত এই চক্র প্রায় ১৬ লাখ রিঙ্গিতের অবৈধ ব্যবসা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পূর্বের পোস্ট :