হাওরবেষ্টিত দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তিন জেলার সাতটি নদীর পানি আটটি পয়েন্টে এখনো প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আগামী তিন দিন পর বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
শুক্রবার (৯ মে) কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিন অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের নলজুর নদীর পানি জগন্নাথপুর পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার বেড়ে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ জেলার হাওর অঞ্চলে নদীর পানি ঘণ্টায় শূন্য থেকে ১ সেন্টিমিটার হারে ধীরে ধীরে কমছে।
নেত্রকোণার ধনু-বাউলাই নদীর পানি খালিয়াজুড়ি পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভুগাই–কংস নদীর পানি জারিয়াজঞ্জাইল পয়েন্টে ৩০ সেন্টিমিটার বেড়ে ৬২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। সোমেশ্বরী নদীর পানি কলমাকান্দা পয়েন্টে ৩৬ সেন্টিমিটার, মগড়া নদীর পানি নেত্রকোণা পয়েন্টে ৭৯ সেন্টিমিটার এবং আটপাড়া পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
হবিগঞ্জ জেলার কালনি–কুশিয়ারা নদীর পানি আজমিরিগঞ্জ পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার এবং সুতাং নদীর পানি সুতাং–রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বুলেটিনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে ও অভ্যন্তরে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে নদ-নদীর পানি ধীরগতিতে কমতে শুরু করেছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনজুর রহমান বলেন, “বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। পানি ধীরে ধীরে নামছে। তিন দিন পর পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।”
বুলেটিনে আরও বলা হয়, আগামী তিন দিনে সুরমা–কুশিয়ারা নদীর পানি কমতে পারে। একই সময়ে ধনু–বাউলাই ও ভুগাই–কংস নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে। ফলে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জের হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার মনু, খোয়াই, জুড়ি ও সুতাং নদীর পানি আগামী তিন দিনে কমে আসতে পারে। এতে সুতাং অববাহিকার হাওর অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রটি।
পূর্বের পোস্ট :