যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দ্বিতীয় দফায় উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির—এটি নিশ্চিত করেছে পুলিশ। পরিবারের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের দূতাবাস।
শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাস জানায়, ফ্লোরিডার পুলিশ বিভাগ বৃষ্টির ভাইকে ফোন করে উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় দেহাবশেষ তারই বলে নিশ্চিত করেছে। পরিবারের অনুরোধে বৃষ্টির মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় ওয়াশিংটনস্থ দূতাবাস ও মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেট কাজ শুরু করেছে।
এদিকে একই ঘটনায় নিহত আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃহস্পতিবার। স্থানীয় সময় বেলা দুইটার দিকে ট্যাম্পা বে এলাকায় একটি ইসলামী কেন্দ্রে তার জানাজা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী ও স্থানীয় বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সদস্যরা অংশ নেন। মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মহাপরিচালক এবং লিমনের স্বজনেরাও উপস্থিত ছিলেন।
লিমনের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়াও চলছে। দূতাবাস জানিয়েছে, ২ মে রাতে অরল্যান্ডো থেকে একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ পাঠানো হবে। দুবাই হয়ে ৪ মে সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
লিমন ও বৃষ্টি দুজনেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। লিমন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং ভূগোল, পরিবেশ ও নীতিবিষয়ক বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন। অন্যদিকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী বৃষ্টি পড়ছিলেন রসায়ন প্রকৌশলে।
গত ১৬ এপ্রিল সকাল থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হলে স্থানীয় পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়। পরে ২৪ এপ্রিল একটি সেতুর কাছ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিন পুলিশ জানায়, বৃষ্টিকেও হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার পর লিমনের রুমমেটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। বৃষ্টির খোঁজে তল্লাশির একপর্যায়ে একটি জলাশয় থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়, যা পরীক্ষার পর তার বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, লিমন ও বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল এবং তারা ভবিষ্যতে বিয়ের পরিকল্পনাও করেছিলেন। তবে উচ্চশিক্ষা শেষ করার আগেই এই মর্মান্তিক ঘটনার অবসান ঘটে তাদের স্বপ্নের।
পূর্বের পোস্ট :