নিউইয়র্ক, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশের বিমান পরিবহন খাতের সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি হয়। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
মাহদী আমিন বলেন, দেশের বিমান পরিবহন খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। নতুন নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। যাত্রী ও রুটের চাহিদা বিবেচনায় বিমান বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সেই প্রয়োজন থেকেই বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চাহিদাকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, বোয়িংয়ের একটি প্রতিনিধিদল পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিভিন্ন দিকও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, সফরের দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বৈঠকে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং দেশে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মিয়ানমারে পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা আরও প্রয়োজন।
ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথাও জানান তিনি। সেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে বলে তিনি জানান।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। প্রয়োজনে বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সংলাপের সুযোগ তৈরিতে বাংলাদেশ ভূমিকা রাখতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে।