নেপালে সাম্প্রতিক বন্যার ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই নতুন করে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ধসে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৪ জন।

গান্ডাকি প্রদেশে টানা বৃষ্টির পর কালীগণ্ডকী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। পরে নদীটি ভয়াবহ বন্যার রূপ নেয়। মুস্তাং, মিয়াগদি, পার্বত ও সিয়াংজাসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি ও বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পার্বত জেলার একটি গ্রামে বন্যার পানিতে পুরো একটি বসতি ভেসে গেছে। অন্যদিকে ভূমিধসের কারণে চিতওয়ানের দিকে যাওয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বহু মানুষকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়েছেন।

এদিকে মানাং জেলার হিমলুং হিমালের বেস ক্যাম্পেও তুষারধসের ঘটনা ঘটেছে। রোববারের ওই ঘটনায় দুইজন নিহত এবং ১০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। ৭ হাজার ১২৬ মিটার উচ্চতার পর্বতটির নার ফু এলাকায় তুষারধসে একটি তাঁবু চাপা পড়ে। সেখানে পর্বতারোহী ও সহায়ক কর্মীরা অবস্থান করছিলেন।

নেপালে এর আগেও ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হেনেছে। গত ২৬ আগস্ট ভুটেকোশি নদীর ভয়াবহ বন্যায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ মারা যান এবং ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ হন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নতুন করে ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।