আবাসিক এলাকা ও বিদেশিদের বেশি উপস্থিতি রয়েছে এমন বিভিন্ন স্থানে টানা দুই দিনের অভিযানে এক হাজারের বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ। গ্রেপ্তার হওয়া বিদেশিদের মধ্যে ৪৬০ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন।
বুধবার মালয়েশিয়ার ইংরেজি দৈনিক নিউ স্ট্রেইটস টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, গত ১০ ও ১১ আগস্ট দেশজুড়ে পরিচালিত অভিযানে মোট ৩ হাজার ৩০৭ জন বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই করা হয়।
সুংগাই চুয়ার এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান শেষে মঙ্গলবার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাকারিয়া। তিনি জানান, অভিযানে মোট ১ হাজার ৪৩ জন বিদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮৮০ জন পুরুষ ও ১৬৩ জন নারী। গ্রেপ্তারকৃতদের বয়স ১৭ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে।
গ্রেপ্তার হওয়া বিদেশিদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। দেশটির বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৪৬০ জন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৬৯ জন পুরুষ এবং ৯১ জন নারী।
এ ছাড়া গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৩২৮ জন ইন্দোনেশিয়ার, ১৮৬ জন মিয়ানমারের, ৫৫ জন ভারতের, ২২ জন নেপালের এবং অন্যান্য দেশের ১৪৩ জন নাগরিক রয়েছেন।
জাকারিয়া শাবান বলেন, সাধারণ মানুষের অভিযোগ এবং অভিবাসন বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কিছু আবাসিক এলাকাকে অভিযানের জন্য চিহ্নিত করা হয়। কয়েকটি এলাকায় বিদেশিদের অনিয়ন্ত্রিত উপস্থিতি নিয়ে মালয়েশীয় নাগরিকদের উদ্বেগের পর আইন প্রয়োগকারী তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ এবং বিদেশিদের উপস্থিতি ক্রমেই অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠছে এমন জনমতের পরিপ্রেক্ষিতে আইন প্রয়োগের কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে, নথিপত্রহীন বিদেশিদের গ্রেপ্তার এড়াতে চলমান অভিবাসী প্রত্যাবর্তন কর্মসূচির সুযোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাকারিয়া। বলেন, এই কর্মসূচির আওতায় বিদেশি নাগরিকরা স্বেচ্ছায় মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের কাছে আত্মসমর্পণ করে ৫০০ রিঙ্গিত জরিমানা দিয়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবেন।
পূর্বের পোস্ট :