নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত সালিশি আদালতের সিন্ধু পানি চুক্তি–সংক্রান্ত সাম্প্রতিক রায়কে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই রায়কে “বেআইনিভাবে গঠিত” আদালতের সিদ্ধান্ত আখ্যা দিয়ে এটিকে “অকার্যকর ও বাতিল” বলে ঘোষণা করেছে।
গত ১৫ মে দেওয়া রায়ে আদালত ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে পানি সংরক্ষণের জন্য জলাধারে সর্বোচ্চ পানি ধরে রাখার সীমা নিয়ে নির্দেশনা দেয়। এর পরদিনই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এই আদালতকে ভারত বৈধ সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না, তাই এর রায়ও কার্যকর নয়।
তিনি বলেন, ভারত এই তথাকথিত রায় সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। আগের রায়গুলো যেমন মানা হয়নি, এটিও মানা হবে না।
ভারতের দাবি, সিন্ধু পানি চুক্তি অনুযায়ী বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ব্যবস্থা থাকলেও পাকিস্তান সেই প্রক্রিয়া এড়িয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে, যা চুক্তির পরিপন্থী।
এর আগে ভারত শাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর নয়াদিল্লি পাকিস্তানের সঙ্গে ১৯৬০ সালের এই পানি চুক্তি একতরফাভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। ভারত জানায়, আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাস বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত চুক্তি স্থগিত থাকবে।
দ্য হেগের সালিশি আদালত একতরফা চুক্তি স্থগিতের বিষয়টি গ্রহণ না করলেও ভারত তা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাব নদীর পানির ব্যবহার নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাঠামো নির্ধারিত হয়।
পূর্বের পোস্ট :