ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
শনিবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ বিজেপির কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন রাজ্যের শীর্ষ নেতারা।
আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক ও ক্ষুদিরাম টুডু। তবে কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা এখনো জানানো হয়নি।
শপথ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনবীশ, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহাসহ বিজেপি-শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের নেতারা। অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীও অনুষ্ঠানে ছিলেন।
বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী বিজেপির ২০৭ জন বিধায়কের সঙ্গে শুক্রবার বৈঠক করে শুভেন্দু অধিকারীকে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত করেন অমিত শাহ। ভারতের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের পরিষদীয় দলনেতাই মুখ্যমন্ত্রী হন।
গত পাঁচ বছর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এ সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে বিজেপির আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন তিনি। সন্ত্রাস, দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ ও অবৈধ অভিবাসনের মতো ইস্যুতে কড়া বক্তব্য দিয়ে বারবার আলোচনায় আসেন তিনি।
এবারের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুটি আসন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দুটি আসনেই জয় পান তিনি। ভবানীপুরে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করেন। এর আগে ২০২১ সালের নির্বাচনেও নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু।
গত ৪ মে ঘোষিত ফল অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজেপি। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পায় ৮০টি আসন। বাকি আসনগুলো যায় বাম, কংগ্রেস ও অন্যান্য দলের দখলে।
পূর্বের পোস্ট :