সম্প্রতি রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান শিক্ষার্থীদের দ্বারা শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার এক লিখিত নিন্দা প্রস্তাবে সাবেক শিক্ষার্থীরা জানান, বিগত বেশ কিছু সময় ধরে কলেজ প্রাঙ্গণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক তকমা ও পক্ষপাতমূলক শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে পরিবেশকে মাঝে মাঝেই উত্তপ্ত করে তুলতে দেখা যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক তকমা ব্যবহার করে শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করছে।

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে সাবেক শিক্ষার্থীরা বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃত্বে সূচনালগ্ন থেকেই নিয়োজিত রয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ। ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ অবধি লক্ষাধিক শিক্ষার্থী এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে শুধু দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যেই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছেন এবং অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করছেন।

উচ্চপদস্থ সরকারি চাকরি হতে শুরু করে চিকিৎসক, বিচারক, প্রকৌশলী, ব্যাংকার, অধ্যাপনা, প্রবক্তা, ওকালতি এবং সশস্ত্র বাহিনীসহ বাংলাদেশের এমন কোনো কর্মক্ষেত্র নেই যেখানে রাজউক কলেজের শিক্ষার্থীদের গৌরবময় পদচিহ্ন পড়েনি। সূচনালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চার সীমানার মধ্যে কোনো প্রকার রাজনৈতিক স্লোগান বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়নি, যা এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্য বলে জানান তারা।

কিন্তু সম্প্রতি একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দোসর আখ্যা দিয়ে চরম অবমাননার মাধ্যমে কলেজ প্রাঙ্গণ হতে বহিষ্কার করতে বাধ্য করা হয়। পরবর্তী সময়ে রাজউক কলেজ এক্স-স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (রেসা)-এর সভাপতিকেও অনুরূপ এক বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাবেক শিক্ষার্থীরা।

সর্বশেষ গত ১৪ জুন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজহারুল স্যারকে বহিষ্কারের ইস্যুতে বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, বেশ কিছু শিক্ষার্থী শিক্ষকদের প্রতি তীব্র অবজ্ঞা ও অবমাননাকর অঙ্গভঙ্গি এবং শব্দ ব্যবহার করছে। এমনকি কাউকে কাউকে শিক্ষকদের বসার চেয়ার পর্যন্ত তুলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে, যা অতিমাত্রায় উচ্ছৃঙ্খলতার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন সাবেক শিক্ষার্থীরা।

এমন অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড কলেজের ভাবমূর্তিকে প্রতিনিয়ত মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে, যা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রকাশ পাচ্ছে উল্লেখ করে সাবেক শিক্ষার্থীরা বর্তমান শিক্ষার্থীদের এই রূপ আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে কলেজে সংগঠিত এসব কর্মকাণ্ড সমাজ ও কর্মজীবনে গভীর বিব্রতকর প্রশ্নের সম্মুখীন করছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

বিবৃতিতে সাবেক শিক্ষার্থীরা বলেন, “কলেজের বর্তমান শিক্ষার্থীদের এমন কর্মকাণ্ডে আমাদের সন্তানদের সামনেও আমাদের প্রাণের কলেজের গৌরবোজ্জ্বল ভাবমূর্তি ধূলিসাৎ হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এমন আচরণ এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের অসহায়ত্ব প্রকাশ অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং ধিক্কারজনক।”

সাবেক শিক্ষার্থীরা রাজউক কলেজ কর্তৃপক্ষের নিকট এ সমস্যা সমাধানে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন:

১. কলেজ প্রাঙ্গণে যথাযথ অনুমোদন ব্যতিরেকে শিক্ষার্থীদের ভিডিও ধারণ বা লাইভ করার ডিভাইস ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।

২. শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোনো দ্বন্দ্ব বা মতপার্থক্য যেন কোনোভাবেই শিক্ষার্থী পর্যায় পর্যন্ত না পৌঁছায় তা নিশ্চিত করা।

৩. কোনো রূপ রাজনৈতিক চর্চা বা উস্কানিমূলক স্লোগান কলেজ প্রাঙ্গণে সংগঠিত হতে না দেওয়া।

৪. শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা। কোনো অবস্থাতেই শিক্ষার্থী কর্তৃক শিক্ষক লাঞ্ছিত বা অবমাননার শিকার হওয়ার পুনরাবৃত্তি রোধ করা।

৫. প্রতিষ্ঠানের সেই ঐতিহ্যবাহী ও কঠোর নিয়মানুবর্তিতার চর্চা পুনরায় কলেজে পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা করা।

উপরোক্ত প্রস্তাবনা ও দাবিসমূহ অনতিবিলম্বে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি গঠনমূলক সমাধান নিশ্চিত করাই রাজউকের সাবেক শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা বলে জানান তারা।

কলেজ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হলে রাজউক কলেজের বর্তমান পর্ষদকে অনাকাঙ্ক্ষিত, দুর্বল এবং নখদন্তহীন হিসেবে বিবেচনা করা ছাড়া প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আর কোনো উপায় থাকবে না বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তারা।