রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। রবিবার (৭ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ড একটি দুঃখভারাক্রান্ত ঘটনা ছিল। এ ঘটনায় জাতি গভীরভাবে বেদনাহত ছিল। আমরা রামিসাকে ফিরিয়ে আনতে পারব না। আমাদের যতটুকু করার, সেটা আমরা করার চেষ্টা করেছি। ১৯ মে’র ঘটনার ২৪ মে’র মধ্যে তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দিতে পেরেছি। ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি ছিল। আমাদের নিম্ন আদালতের শিশু ট্রাইব্যুনালগুলো ১ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ছুটিতে ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আমরা এক মাসের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, “নিম্ন আদালতের শিশু ট্রাইব্যুনালগুলো ১ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত যে ছুটি ছিল, তা বাতিল করতে প্রধান বিচারপতির কাছে সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তাতে সম্মতি দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। ফলে ২৪ মে দুপুরে যখন চার্জশিট দেওয়া হয়, বিকেলের মধ্যে সেই চার্জশিট সিএমএম আদালত থেকে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে যায়। তখন ট্রাইব্যুনাল ১ জুন চার্জ গঠনের দিন ধার্য করেন। এর মধ্যে কিছু আনুষ্ঠানিকতা থাকে। যেমন, আসামিপক্ষ কোনো আইনজীবী দেয়নি। আবার ঢাকা বারের সিদ্ধান্তের কারণে কোনো আইনজীবী হয়তো দাঁড়াতে পারেননি।”

আসাদুজ্জামান জানান, “যে আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকে, সেখানে আসামিপক্ষকে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে একজন আইনজীবী দেওয়ার বিধান রয়েছে। তাই ২৪ মে বিশেষভাবে একজন আইনজীবী নিয়োগ দেয় রাষ্ট্রপক্ষ, যাতে ন্যায়বিচার নিয়ে কোনো প্রশ্ন তৈরি না হয়। ১ জুন চার্জ গঠন হয়েছে। আইনের বিধান অনুযায়ী পরের দিন সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। তার পরের দিন ৩৪২ ধারায় আসামিদের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে, যেখানে আসামি সোহেল রানা নিজে দায় স্বীকার করেছেন। এরপরের দিন যুক্তিতর্কের জন্য আদালত দিন রেখেছিল। পরে আজ রায় হয়েছে।”

তিনি বলেন, “ছয় কার্যদিবসের মধ্যে রামিসা হত্যার বিচার করতে সক্ষম হয়েছি, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। এর আগে ১৯৮২ সালে নদীয়া সেশন কোর্ট মুল্লুক চাঁদ নামের এক ব্যক্তিকে তার ৯ বছরের শিশুকন্যাকে হত্যার দায়ে একদিনে বিচারকার্য শেষ করেছিল। আমরা আইনের প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে ছয় দিনের মধ্যে বিচার শেষ করেছি। এই ঘোষিত শাস্তিতে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট। আশা করি, উচ্চ আদালতেও এই রায় বহাল থাকবে।”

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সাত দিনের মধ্যে এই ফাইল হাইকোর্ট বিভাগে চলে যাবে। সেখানে যাওয়ার পর এসব মামলায় পেপারবুক প্রস্তুত করতে হয়, যা বাইরে করার সুযোগ নেই; সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানেই হবে। এরপর ধারাবাহিকভাবে মৃত্যুদণ্ডের মামলাগুলোর নিষ্পত্তি করেন সুপ্রিম কোর্ট।

তিনি বলেন, “রামিসার এ বিষয়ে আমি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছি। এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। যত দ্রুত সম্ভব এটি নিষ্পত্তি করব।”

রায়  কার্যকর না হওয়ায়ই সমাজে এমন ঘটনা বারবার ঘটছে কিনা, প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, কার্যকর না হওয়া যেমন একটি হতাশার জায়গা। আবার এই কারণে এমন ঘটনা ঘটছে, সেটা আপনারা হয়ত কেউ কেউ বলতে পারেন। কিন্তু আমার কাছে সেটা মনে হচ্ছে না। এটা অন্যতম কারণ হতে পারে। ধরেন, রামিসার হত্যাকারী সোহেল মানসিকভাবে অপরাধী। এমন একটি ঘটনা ঘটিয়ে তারা ১৬৪ করেছেন। বিচারকে অন্যখাতে প্রবাহিত করতে মামলার রেকর্ডে নেই এমন আরেকজনকে টেনে আনতে চেয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল, বিচারপ্রক্রিয়া কতটা বিলম্বিত করা যায়।