দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ‘পুশইনের ৮টি চেষ্টা’ প্রতিহত করার দাবি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার সকালে বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

“দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।”

বিজিবি জানিয়েছে, ঝিনাইদহের মহেশপুর ব্যাটালিয়নের আওতাধীন যাদবপুর সীমান্তে তিনজনের প্রবেশচেষ্টার সময় বিজিবির টহলদল সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নিয়ে তাদের বাধা দেয়। পরে তারা ভারতে ফিরে যায়।

নওগাঁর করমুডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা ঠেকিয়েছে বিজিবির টহলদল।

তিস্তা ব্যাটালিয়নের আওতাধীন বড়খাতা সীমান্তে ১১ জনের অনুপ্রবেশ ঠেকানো হয়েছে। এছাড়া পয়ষট্টিবাড়ী সীমান্তে আরও ১০ জনের পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের আওতাধীন দিঘলটারী সীমান্ত এলাকায় সাতজনকে পুশইনের চেষ্টা হলে বিজিবি তা রুখে দেয়। একইভাবে দুর্গাপুর সীমান্তে চারজনের অনুপ্রবেশ ঠেকানো হয়েছে। বিজিবির ভাষ্য, ওই ব্যক্তিরা বর্তমানে ভারতীয় ভূখণ্ডের কাঁটাতারবিহীন চর এলাকায় অবস্থান করছে।

নীলফামারী ব্যাটালিয়নের আওতাধীন পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকায় ১০ জনের অনুপ্রবেশ ঠেকানো হয়েছে। এ ঘটনায় বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এছাড়া নেত্রকোণা ব্যাটালিয়নের আওতাধীন কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ১৬ থেকে ১৭ জন ব্যক্তিকে ‘পুশইনের জন্য জড়ো করা হয়’ বলে জানিয়েছে বিজিবি। বাহিনীটির দাবি, তাদের কঠোর অবস্থানের কারণে ওই ব্যক্তিদের লেংগুড়া সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফের চিকনী ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবারও বিজিবি জানিয়েছিল, তারা ১০টি পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। বাহিনীটির ভাষ্য, সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে তারা নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

মে মাসের শুরুতে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর ‘বিতর্কিত’ নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) কার্যকরের ঘোষণা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কাউকে বাংলাদেশি ‘অনুপ্রবেশকারী’ সন্দেহ হলেই তাকে সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

একই সঙ্গে ‘অবৈধ অভিবাসীদের’ ফেরত পাঠানোর আগে রাখার জন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় ‘আটক শিবির’ গড়ে তোলা হয়।

রাজ্য সরকারের ওই সিদ্ধান্তে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়, অনেক মানুষ স্বেচ্ছায় রাজ্য ছাড়তে বাংলাদেশসংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় জড়ো হচ্ছেন।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সম্প্রতি বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার যে চেষ্টা চলছে, তা প্রতিহত করতে বিজিবি যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে।