ঈদের পরদিনও সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পশু কোরবানি চলছে।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর শান্তিবাগ, মালিবাগ, মৌচাকসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশ কিছু স্থানে পশু জবাই করা হয়েছে। কোথাও কোথাও চলছে মাংস কাটা ও চামড়া ছাড়ানোর ব্যস্ততা।

ঈদের দিন কসাইয়ের সংকট, স্বজনদের জন্য অপেক্ষা এবং পারিবারিক বা ব্যক্তিগত বিভিন্ন কারণে অনেকে দ্বিতীয় দিনে কোরবানি দিয়ে থাকেন। কোরবানি হয় ঈদের তৃতীয় দিনেও।

মালিবাগের বাসিন্দা মো. হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গতকাল একটি গরু কোরবানি করেছি। আজ আবার আরেকটি করছি।”

অন্যদিকে শান্তিনগরের বাসিন্দা ফাহিম হোসেন বলেন, “পারিবারিক সংবেদনশীল ও ব্যক্তিগত একটি কারণে আমরা বহু বছর ধরে ঈদের প্রথম দিন কোরবানি করি না। সাধারণত ঈদের দ্বিতীয় দিনেই কোরবানি করি।”

শান্তিবাগের স্থায়ী বাসিন্দা মো. সালাহউদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা পারিবারিকভাবে সবসময় ঈদের দ্বিতীয় দিনে কোরবানি করি। সেই ধারাবাহিকতায় আজ সকালে মহিষ কোরবানি করলাম।”

কোরবানির সময়টাতে কসাইদের ব্যস্ততাও থাকে তুঙ্গে। হাফিজ আলী নামের এক কসাই বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রতিবছর কোরবানির তিন দিনই আমার কাজ থাকে। এই সময় মোটামুটি ভালো আয়-রোজগার হয়।”

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, হিজরি জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ—এই তিন দিন সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি দেওয়া যায়। ইসলামি ক্যালেন্ডারে সূর্যাস্তের মাধ্যমে এক দিন শেষ হয়ে নতুন দিনের সূচনা হয়। তাই জিলহজের ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত, অর্থাৎ ১৩ তারিখ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত কোরবানি করা যায়। ফলে কোনো কারণে ঈদের দিন কোরবানি করা সম্ভব না হলে পরের দুই দিনও পশু কোরবানি করার সুযোগ পান মুসলমানরা।

এদিকে দ্বিতীয় দিনের পশুর বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার করতে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন।

কোরবানির দ্বিতীয় দিনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সাড়ে ১১ হাজার টনের বেশি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ৭ হাজার টনের বেশি বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।