এক দশক আগে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় আরও একজনের রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এর ফলে ডিএনএ পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত তনুর পোশাকে চারজন পুরুষের শুক্রাণু ও রক্তের নমুনা পাওয়ার তথ্য সামনে এসেছে।

মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত ব্যুরোর (পিবিআই) ঢাকার কল্যাণপুর কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম রোববার রাতে বলেন, কয়েক মাস আগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) চিঠি দিয়ে তনুর পোশাক থেকে পাওয়া নমুনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়।

তিনি বলেন, “প্রায় এক মাস আগে জানানো হয়, তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর পাশাপাশি আরও একজনের রক্তের নমুনা সেখানে পাওয়া গেছে।”

তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, “এটি নতুন কোনো তথ্য নয়। ২০১৭ সালেই তিনজনের ডিএনএর তথ্য সামনে এসেছিল। এখন আরেকজনের তথ্য যুক্ত হয়েছে।”

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার পাওয়ার হাউসের কাছে একটি জঙ্গলে তনুর লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

ঘটনার পর থেকেই তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠে। সেনানিবাসের মতো সুরক্ষিত এলাকায় এমন ঘটনার রহস্য উন্মোচন না হওয়ায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানানো হয়।

প্রাথমিক তদন্তে থানা পুলিশ, পরে গোয়েন্দা পুলিশ এবং এরপর সিআইডি দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করলেও রহস্যের সমাধান হয়নি।

পরে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলার তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এরপর প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রথম একজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় পিবিআই।

গ্রেপ্তার হওয়া হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ ওয়ারেন্ট অফিসার। তিনি তনু হত্যার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

তাকে তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর ২৫ এপ্রিল কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে মামলার অগ্রগতি জানতে আদালত পিবিআইকে নির্দেশ দিলে ৬ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে তিনজনের ডিএনএ প্রোফাইল পরীক্ষার আবেদন করেন, যা পরে মঞ্জুর হয়।

তবে কাদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আবেদন করা হয়েছিল, তা তখন প্রকাশ করা হয়নি। পরে গ্রেপ্তার হওয়া হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সেই পরীক্ষার ফল এখনো পাওয়া যায়নি।