বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার সরকারি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিমানবন্দরটি পরিদর্শন করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।
বৃহস্পতিবার সকালে বিমানবাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারে তিনি বগুড়া বিমানবন্দর সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
পরিদর্শন শেষে ব্রিফিংয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা বগুড়া পরিদর্শনে এসেছি। উত্তরাঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বগুড়াকে দেশের অন্যতম এভিয়েশন হাবে রূপান্তর করা হবে। বগুড়াবাসী সত্যিই ভাগ্যবান। মন্ত্রণালয়ের এই বৃহৎ পরিকল্পনার যাত্রা বগুড়া দিয়েই শুরু হচ্ছে।’
প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের পাশাপাশি ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ অবতরণ করতে পারে।
‘একই সঙ্গে এখানে কার্গো ফ্যাসিলিটি স্থাপন করা হবে, যা উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য ও রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে,’ বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও এভিয়েশন খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে বগুড়া বিমানবন্দরকে সম্প্রসারণের মাধ্যমে পাইলট ট্রেনিং একাডেমি ও কার্গো ফ্যাসিলিটি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আজকের পরিদর্শন।’
বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান বলেন, ‘বিমানঘাঁটির প্রাথমিক অনুমোদন ইতোমধ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন। উত্তরাঞ্চলে একটি অত্যাধুনিক বিমানঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। এটি আমার প্রতিজ্ঞা। সেখানে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল সুবিধা গড়ে তোলা হবে।’
১৯৯০-এর দশকে অনুমোদন পেলেও নানা কারণে বগুড়া বিমানবন্দর চালু করা যায়নি। ২০০৬ সাল থেকে এটি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বর্তমানে এটি একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য উড্ডয়ন ও অবতরণ উপযোগী বিমানঘাঁটি (স্টলপোর্ট) হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রায় ১০৯ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই বিমানবন্দরে রয়েছে ৪ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ ও ১০০ ফুট প্রশস্ত রানওয়ে, একটি চারতলা টার্মিনাল ভবন, দোতলা ফায়ার স্টেশন, পাওয়ার হাউস এবং সীমিত নিরাপত্তা অবকাঠামো।
তবে রানওয়ে লাইটিং ব্যবস্থা না থাকায় এখান থেকে রাতে ফ্লাইট পরিচালনা সম্ভব নয়। পাশাপাশি বর্তমান অবকাঠামো বড় আকারের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্যও উপযুক্ত নয়।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিমানবন্দরকে পর্যায়ক্রমে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে। এর অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে প্রায় ৪০০ একর জমির ওপর ৯ হাজার ফুট দীর্ঘ ও ১৫০ ফুট প্রশস্ত রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা পরবর্তী সময়ে ১০ হাজার ৫০০ ফুটে সম্প্রসারণ করা হবে।
এর ফলে প্রায় ৯০০ একর জমির পরিকল্পনার মধ্যে নতুন করে প্রায় ৭০০ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও বগুড়া বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে তোড়জোড় দেখা গিয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি।
পূর্বের পোস্ট :