টানা বর্ষণে হবিগঞ্জের চার উপজেলায় অন্তত পাঁচ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। যারা জমি থেকে ফসল কাটতে পেরেছেন, তাদের ধানও মাঠে ভিজছে। রোদ না থাকায় তা শুকিয়ে গোলায় তুলতে পারছেন না কৃষকরা।

এ অবস্থায় বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, লাখাই ও নবীগঞ্জ উপজেলার হাজার হাজার কৃষক অসহায় হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

হবিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক বলেন, টানা বৃষ্টির আশঙ্কা থেকে কৃষকদের আগেই পাকা ধান দ্রুত কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, “গত কয়েকদিনে চারটি উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান তলিয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ে আমাদের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ করছেন।”

এদিকে বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হবিগঞ্জের নদ-নদীর পানি ক্রমেই বাড়ছে। এতে হাওরে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চারটি উপজেলায় অন্তত ১০ থেকে ১২টি হাওর রয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যে ফসল তলিয়ে গেছে।

টানা বৃষ্টি ও দ্রুত পানি বাড়ার কারণে কৃষকেরা পাকা ধান ঘরে তুলতে পারেননি। খলায় থাকা ধানও গোলায় নেওয়া সম্ভব হয়নি। অনেক কৃষককে পানির নিচ থেকে ধান কেটে তুলতে দেখা যাচ্ছে, যা স্থানীয়ভাবে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

লাখাই উপজেলার করাব গ্রামের কৃষক রফিক মিয়া বলেন, “সারা বছরের ফসল চোখের সামনে তলিয়ে যাচ্ছে। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না। আমার আট বিঘা জমির সব ধান পানির নিচে।”

নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ গ্রামের কৃষক রহমান উল্লাহ বলেন, “ধান পেকে গিয়েছিল, আর কয়েকদিন পরই ঘরে তোলার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টি ও উজানের পানিতে সব তলিয়ে গেছে।”

আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিরাট গ্রামের কৃষক জিহান আহমেদ বলেন, “ভাটি এলাকা হওয়ায় বৃষ্টির পানিই আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিচু সব জমি তলিয়ে গেছে।”

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বৃষ্টি ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল তলিয়ে যেতে পারে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সায়েদুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত জেলার কোনো নদীর বাঁধে ভাঙন দেখা যায়নি। তবে বেশ কিছু নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে।