জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে যুব ও নারী কৃষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে কমিউনিটি পর্যায়ে পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধির নানা কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।
২৩–২৯ এপ্রিল পালিত এ সপ্তাহকে কেন্দ্র করে পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম আয়োজন করা হয়।
এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয় Diversified Resilient Agriculture for Improved Food and Nutrition Security (RAINS) প্রকল্পের আওতায়, যা যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে Global Alliance for Improved Nutrition (GAIN) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে ২৮ এপ্রিল দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার আউলিয়াপুকুর ও সাইতারা ইউনিয়নে কমিউনিটি পর্যায়ে পুষ্টি সচেতনতা সেশন এবং অংশগ্রহণমূলক রান্না প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (বিরতান)-এর সহযোগিতায় স্থানীয় ও মৌসুমি উপকরণ ব্যবহার করে পুষ্টিকর খাবার প্রস্তুত, স্বাস্থ্যসম্মত রান্না পদ্ধতি এবং খাদ্য সংরক্ষণ বিষয়ে ব্যবহারিক প্রদর্শনী পরিচালনা করা হয়। এসব কার্যক্রমে যুব ও নারী কৃষকেরা সরাসরি অংশ নেন।
RAINS প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে অর্থায়ন সহায়তা দিচ্ছে গ্লোবাল অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড সিকিউরিটি প্রোগ্রাম (GAFSP) এবং কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (IFAD)। প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE)। অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর (DAM), FAO-TA এবং GAIN।
জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এসব কার্যক্রমে সুষম খাদ্যাভ্যাস, খাদ্য বৈচিত্র্য এবং উন্নত খাদ্য ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে নারী, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য পুষ্টির গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়। কমিউনিটি পর্যায়ে অপুষ্টি মোকাবিলায় পুষ্টিবিষয়ক জ্ঞান বৃদ্ধি এবং স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য পুষ্টিকর খাদ্যের ব্যবহার উৎসাহিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, দিনাজপুরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন; রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রকল্প কর্মকর্তা রাশেদুল আলম; কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মো. মোস্তাফিজুর রহমান; উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা; বাংলাদেশ পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের (বিরতান) ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. ছাদেকুল ইসলাম এবং গেইনের প্রতিনিধিরা।
আয়োজকেরা জানান, অংশগ্রহণমূলক ও কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে পুষ্টি-সংবেদনশীল কৃষি বিস্তারে টেকসই পরিবর্তন আনা সম্ভব।
জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এসব কার্যক্রম স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পূর্বের পোস্ট :