বাংলাদেশকে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও দক্ষ মানবসম্পদসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) প্রতি বুধবার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এএনএম এহছানুল হক মিলন।
"বিএনপি সবসময় শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিক্ষা খাতের মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের নানা সমস্যা সমাধানে কাজ করেছেন। তাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা খাতকে সবার ওপরে রেখেছেন," ইউজিসির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
মিলন বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম তদারকি, মান নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইউজিসির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। "বর্তমানে দেশে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ইউজিসির দায়িত্ব ও কর্মপরিধিও অনেক বেড়েছে। তাই প্রতিষ্ঠানটিকে আরও গতিশীল, কার্যকর এবং ফলপ্রসূভাবে কাজ করতে হবে।"
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক র্যাংকিং ক্রমান্বয়ে নিম্নমুখী হওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে মিলন বলেন, “আমরা আঠারো কোটির মানুষের দেশ, অথচ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আমাদের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ও নেই। এই প্রেক্ষাপটে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পোস্টগ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা এবং গবেষণা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে একটি কার্যকর রিসার্চ কাউন্সিল গঠনের প্রয়োজনীয়তার সবার আগে।”
শিক্ষামন্ত্রী “রিভার্স ব্রেইন ড্রেইন” কার্যক্রম বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে জানান, বিদেশে অবস্থানরত মেধাবী বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদদের দেশে ফিরিয়ে এনে শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
মন্ত্রী ইউজিসির সদস্য ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে নতুন চিন্তা, সৃজনশীল উদ্যোগ এবং বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্বের আলোকে সুস্পষ্ট ভিশন ও মিশন নির্ধারণ করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
সভায় মন্ত্রী ইউজিসির চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি সংক্ষিপ্ত লিখিত প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য কমিশনের কাছে অনুরোধ জানান, যাতে উচ্চশিক্ষা খাতের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জসমূহ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। দেশের উচ্চশিক্ষা খাতকে আরও শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে ইউজিসি এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় ইউজিসির চেয়ারম্যান ড. এস এম এ ফায়েজ এবং কমিশনের সদস্যবৃন্দ উচ্চশিক্ষা খাতের বিভিন্ন দিক, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং মানোন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন।
পূর্বের পোস্ট :