ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যায়ের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত খসড়া রবিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এক বার্তায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়,  দ্রুততম সময়ে অধ্যাদেশ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাভ করবে বলে আশাবাদী তারা।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ চূড়ান্তকরণের পূর্বে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে সম্পৃক্ত মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত সংগ্রহ, ওয়েবসাইটে প্রকাশের মাধ্যমে সর্বসাধারণের মতামত গ্রহণ, শিক্ষক-শিক্ষাথী-সুশীল সমাজের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠান, বিশেষজ্ঞদের অভিমত গ্রহণের মতো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করতে হয়েছে বলে জানায় মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় জানায়, অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে সকলের যৌক্তিক প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে এবং উদ্বেগসমূহকে বিবেচনায় নিয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার উপযোগী কাঠোমা নির্ধারণ করাই ছিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মূল লক্ষ্য। সকলের ধৈর্যশীল সহযোগিতা এবং গঠনমূলক ভূমিকার কারণেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় জটিল এ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সময়ে সময়ে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে ধারাবাহিক অগ্রগতির তথ্য সর্বসাধারণকে অবহিত করেছে।

টেকসই ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মৌলিক ও উপরিকাঠামোগত সংস্কারের কাজগুলো সুশৃঙ্খলভাবে ধাপে ধাপে এবং যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হয়। যে কোন পর্যায়ে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা পুরো উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করে মন্ত্রণালয়। 

অধ্যাদেশটি যেহেতু এখন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে, সেহেতু জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় বা স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয় এমন কোনো কর্মসূচি বা কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আহবান জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলে, "যেকোনো আবেগপ্রসূত বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দীর্ঘদিনের এই অর্জন ও শ্রমকে নসাৎ করে দিতে পারে।"

শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্বাস করে, দীর্ঘদিনের ধৈর্য্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার এই ধারা অব্যাহত রেখে আমরা অতি দ্রুত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা নিশ্চিত করতে পারবে, যা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার প্রসারে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

প্রসঙ্গত, ঢাকার বড় সাতটি কলেজের জন্য প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে গত সপ্তাহে ঢাকার সায়েন্স ল্যাব, টেকনিক্যাল মোড় ও তাঁতীবাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে এসব কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে করে নাগরিক জনজীবনে নেমে আসে ভোগান্তি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে অধ্যাদেশ চূড়ান্তের ঘোষণা দিল মন্ত্রণালয়।

ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজ- এই সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে  ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রথম খসড়া নিয়ে আপত্তি জানায় শিক্ষার্থীরা।

পরবর্তীতে পরিমার্জিত খসড়ায় কলেজগুলোর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে অনেকটা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ‘সংযুক্ত’ থেকে কার্যক্রম চালাবে বলে উল্লেখ করা হয়।

ঢাকার এই সাত কলেজকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই সংকট চলছে। ২০১৭ সালে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই এই সাত কলেজকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সাত কলেজকে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা করার ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু নতুন বিশ্ববিদ্যালয় চূড়ান্ত হওয়ার আগেই অধিভুক্তি বাতিল করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সাত কলেজ মিলে এবং তাদের স্বাতন্ত্র বজায় রেখে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।