জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে তাঁকে বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
ইস্তাম্বুলে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল নিউইয়র্কে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম তাঁকে স্বাগত জানান।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রীকে মোটরশোভাযাত্রার মাধ্যমে নিউইয়র্কের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল হোটেলে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর সফর উপলক্ষে প্রবাসী বাংলাদেশি ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও কর্মসূচি রয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিনে জলবায়ু পরিবর্তন ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর নিয়ে আয়োজিত আলোচনাতেও অংশ নেবেন তিনি। ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় তাঁর ভাষণ দেওয়ার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠকের সূচি রয়েছে।
জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।
২৫ সেপ্টেম্বর ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক, কুয়েতের যুবরাজের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাৎ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
সূচি অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্ক থেকে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।