প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজেদের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।’

আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে নেত্রকোনার কলমাকান্দা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

একই সঙ্গে পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা করা এবং প্রাণী ও জীবজন্তুর প্রতি যত্নশীল হওয়ার পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ কথা জানান।

পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস নিজের পরিবার থেকেই শুরু করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘তোমরা নিজেরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে এবং পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও প্রতিবেশীদেরকেও সচেতন করবে। তোমাদের ছোট ছোট উদ্যোগই একটি পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।’

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন। তারা কোন শ্রেণিতে পড়ে, কীভাবে পড়াশোনা করছে এবং ভবিষ্যতে কী হতে চায়; এসব বিষয়েও তাদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু পাঠ্যবইয়ে মনোযোগ দিলেই হবে না; সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করতে হবে। সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে হবে এবং নিজেদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

মানুষের পাশাপাশি প্রাণী ও জীবজন্তুর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের চারপাশের অসহায় ও অবলা প্রাণীদের প্রতিও যত্নবান হতে হবে। কোনো প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করা যাবে না। জীবজন্তুর প্রতি মমতা ও দায়িত্ববোধ মানবিক সমাজের পরিচয়।’

ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ৪২ জন শিক্ষার্থী আজ জাতীয় সংসদের অধিবেশন দেখতে সংসদ ভবনে আসেন।

তাদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষক এবং পরিচালনা কমিটির দুজন সদস্যও ছিলেন। সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার একপর্যায়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পরামর্শ নিজেদের জীবনে অনুসরণ করার পাশাপাশি পরিবার, বিদ্যালয় ও এলাকার মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তারা।