রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বসানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরার মাধ্যমে আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত দেড় হাজার মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনসহ বিভিন্ন জটিলতায় ট্রাফিক বিভাগের জারি করা প্রায় ৩৮ হাজার সমন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সংসদ ভবন ও জিয়া উদ্যান সংলগ্ন লেক রোডে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক মামলা ও যানবাহন মনিটরিং কার্যক্রম উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার।
ঢাকার মোহাম্মদপুরে ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগ কার্যালয়ে চারটি ক্রসিংয়ে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে মামলা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তিনি।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাজধানীর ১৫টি ইন্টারসেকশনে আগে থেকেই এআই ক্যামেরা বসানো ছিল। এর সঙ্গে নতুন করে আরও চারটি ইন্টারসেকশন যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে মোট ১৯টি ইন্টারসেকশনে এআই ক্যামেরা চালু করা হয়েছে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জংশনেও এআই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, সড়কে গাড়ি থামিয়ে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়, তা এড়াতে ক্যামেরাভিত্তিক মামলা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এআই ক্যামেরায় সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ লঙ্ঘনের বিষয়গুলো শনাক্ত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এর আগে গত ২৯ এপ্রিল ডিএমপি সদর দপ্তরে আইজিপি আলী হোসেন ফকির এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। পরে ৩ মে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চালক ও গাড়ির মালিকদের ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ট্রাফিক মামলা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়। কয়েকদিন পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে ৭ মে থেকে নির্ধারিত পয়েন্টগুলোতে স্বয়ংক্রিয় মামলা কার্যক্রম শুরু করে পুলিশ।
এআই ক্যামেরা চালুর পর থেকে প্রায় দুই মাসে দেড় হাজার মামলা হয়েছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ডিজিটাল মামলার কপি বর্তমানে ডাকযোগে পাঠানো হচ্ছে।
গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনের কারণে কিছু ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মামলার কাগজ আগের মালিকের কাছে চলে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সমনের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এ পর্যন্ত আমাদের কাছে যে হিসাব আছে, সেখানে ৩৮ হাজার সমন পেন্ডিং আছে।”
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একার পক্ষে এসব অটোরিকশা এখনই রাস্তা থেকে তুলে দেওয়া সম্ভব নয়। মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে এ বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে।
এর আগে ডিএমপি কমিশনার জানিয়েছিলেন, সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিং ও দুর্ঘটনাপ্রবণ পয়েন্টগুলোতে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে এবং চালকদের মধ্যে নির্দিষ্ট লেনে থাকা ও সিগন্যাল মেনে চলার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ডাইভারশন ও আধুনিক সিগন্যাল লাইট ব্যবস্থার সমন্বয় ঢাকাকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট সিটিতে রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করছে।
লেক রোডে এআই ক্যামেরা চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, গতিসীমা লঙ্ঘন, বিপজ্জনকভাবে লেন পরিবর্তন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, অবৈধ পার্কিং এবং যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি—এসব বিষয় এআই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করবে। এরপর ডিজিটাল পদ্ধতিতে মামলা করা হবে, যা চালক ও মালিকপক্ষ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে পারবেন।
পূর্বের পোস্ট :