জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) লাইনসে কমিউনিটি পুলিশিংবিষয়ক এক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

আইজিপি জানান, পুলিশ জনগণের আস্থা ফিরে পেতে চায় এবং মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। আরও মানবিক ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে ওঠাই পুলিশের লক্ষ্য।

খুলনায় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদ দমনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) এ সভার আয়োজন করে।

আইজিপি বলেন, গত ১৭ বছরে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা নিরসন করাই অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

৫ আগস্টের পর পুলিশ নতুন প্রত্যয় নিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং দায়িত্ব পালন করছে বলেও জানান তিনি।

মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে আলী হোসেন ফকির বলেন, সমাজে মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং থাকবে না। এসব অপরাধ নির্মূলে সব পক্ষ একসঙ্গে কাজ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বর্তমানে যৌথ অভিযান চলছে বলেও জানান আইজিপি।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও বেগবান করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

এ লক্ষ্যে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় একটি কাঠামো অনুমোদন করেছে বলেও জানান তিনি।

কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কিছু সদস্যর বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষকে হয়রানি, ভয়ভীতি দেখানো ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ স্বীকার করে আইজিপি বলেন, এ ধরনের ঘটনা আর ঘটতে দেওয়া যাবে না। এ জন্য আইনি কাঠামোর মধ্যে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

সাংবাদিকদের সমাজের দর্পণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমে তাদের সহযোগিতা কামনা করেন।

ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কেএমপি কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম এবং পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, খুলনার কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) এ কে এম মোশাররফ হোসেন মিয়াজী।

এ সময় স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরে আইজিপি খুলনা রেঞ্জের ডিআইজির কার্যালয়ে খুলনার বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।