দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল হ্যান্ডসেট বিস্ফোরণে প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছে সংগঠনটি।

আজ গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত কারণ নিরপেক্ষ, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করতে হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দায়ী কিংবা দায়মুক্ত ঘোষণা করা থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে উৎপাদিত, সংযোজিত ও আমদানিকৃত মোবাইল হ্যান্ডসেট, ব্যাটারি এবং চার্জারের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভোক্তাদের নানা অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বা সংযোজিত কিছু ডিভাইস আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান মেনে তৈরি হচ্ছে কি না, তা স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা জরুরি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থও সংরক্ষণের কথা বলা হয়।

সংগঠনটির মতে, যেসব ব্র্যান্ডের মোবাইল হ্যান্ডসেট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, তাদের তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের নিরাপত্তা নিয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তদন্তে কোনো ব্র্যান্ড, উৎপাদনকারী, সংযোজনকারী, আমদানিকারক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনগত ত্রুটি, মান নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা বা নিরাপত্তাজনিত অবহেলার প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও নিহতদের পরিবারের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং প্রয়োজনে ত্রুটিপূর্ণ ডিভাইস বাজার থেকে প্রত্যাহারের (রিকল) ব্যবস্থাও নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সরকারকে অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন, বিটিআরসি, বিএসটিআই ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনা, বাজারে বিক্রি হওয়া মোবাইল ফোন, ব্যাটারি ও চার্জারের মান যাচাই জোরদার, অননুমোদিত ও নিম্নমানের পণ্যের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান এবং স্থানীয় উৎপাদন ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া ভোক্তাদের জন্য কার্যকর অভিযোগ ও প্রতিকার ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, জনগণের জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সমন্বিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা জরুরি।