রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ময়লা-আবর্জনা অপসারণে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

ঈদের তৃতীয় দিন শনিবার জুরাইনে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দুঃস্থদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, “এটি করার জন্য সরকারের কেউ বা এমপি, মন্ত্রী, ওয়ার্ড কমিশনার বা মেয়র হওয়ার দরকার নেই। একজন নাগরিক হিসেবেই সবাই শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে পারেন।”

তিনি আরও বলেন, “এই দেশ কারও একার নয়। দেশ গড়তে হলে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

তিনি নগরবাসীর উদ্দেশে বলেন, যত্রতত্র ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলতে হবে। সবাই যদি সামান্য দায়িত্বশীল আচরণ করে, তাহলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজও সহজ হবে।

“ময়লাটা পকেটে নিয়ে যান—যদি টিস্যু পেপার বা কিছু থাকে, নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলুন,” বলেন তিনি।

১৬ স্থানে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ

জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের ১৬টি স্থানে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের টিঅ্যান্ডটি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে শ্যামলী স্কয়ার, সরকারি বাংলা কলেজ এলাকা, পল্লবী মেট্রো স্টেশন, ইসিবি চত্বর, কুড়িল বিশ্বরোড, ফুজি ট্রেড সেন্টার, জোড়পুকুর খেলার মাঠ, বাংলাবাজার, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন স্থানে দুঃস্থদের মাঝে সহায়তা বিতরণ করা হয়।

বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে ধানমন্ডিতে বিতরণ কার্যক্রম শেষে তারেক রহমান বাসায় ফেরেন বলে জানানো হয়েছে।

জুরাইনে বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ

এর আগে জুরাইনের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ইতোমধ্যে অনেক জায়গা পরিষ্কার করেছে, তবে এখনো কাজ বাকি রয়েছে।

তিনি নগরবাসীর দায়িত্বশীল আচরণের ওপর জোর দিয়ে বলেন, প্রত্যেকে সচেতন হলে শহর পরিচ্ছন্ন রাখা সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

অন্যান্য কর্মসূচি

তারেক রহমান সকালে শেরে বাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। পরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

দিনের বিভিন্ন সময়ে তিনি নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দুঃস্থদের মধ্যে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন।

সন্ধ্যায় গুলশানের বাসভবনে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন বলে জানানো হয়েছে।

মিলাদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।